সোনারগাঁওয়ে এই স্লোগান কাল হয়ে ওসি মুহিববুল্লাহ’র ‘বদলি’র আদেশ

প্রকাশিতঃ মে ৫, ২০২৬, ১০:১১

মো.মোক্তার হোসেন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) থেকেঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় “চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে” এই স্লোগানে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মহিববুল্লাহ’র কাল হয়ে দাঁড়ালো। গত (২ মে) বদলির আদেশের খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সদ্য বিদায়ী ওসি’র আকস্মিক বদলিতে অলিতে-গলিতে পাড়া মহল্লায় মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা মহা-আনন্দে, মহা-উল্লাসে ওসি বিদায়ের প্রহর গুনছে, এ খবর পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাবাসির সর্ব মহলে।

একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত বছরে ডিসেম্বরে সোনারগাঁও থানায় ওসি’র দায়িত্ব নিয়ে মহিববুল্লাহ’র যোগদানের পর মাদক,সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ,কিশোর গ্যাংএর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। অভিযানের প্রথম ধাপে “চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে” অপরাধ দমনে এই স্লোগানে শুরু হয় অভিযানের পর অভিযান।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাত প্রতিরোধে চৌকস টিম নিয়ে ডাকাতি হওয়া স্পটগুলোতে অবস্থান নেন। সোনারগাঁও জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মাদকের সম্রাটদের আতঙ্কের নাম ওসি মহিববুল্লাহ। ভালো কাজের পুরস্কার না দিয়ে বরং ‘অদৃশ্য চাপে’ উপহার হিসেবে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে ওসি মহিববুল্লাহকে। প্রভাবশালী একটি চক্রের বৃহত্তর স্বার্থে মাদক নির্মূলে অপরাধ দমনে থানার ওসি বদলি হওয়ার বিষয়টা স্বাভাবিক বলে সাধারণ মানুষের ধারণা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অনেকেই বলেন, একজন ওসি যখন জনগণের আস্থা অর্জন করে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সফল হন, তখন তাকে অপরাধ নির্মূলে সময় দেওয়া উচিত। ঘন ঘন বদলি, তাও আবার কোনো কারণ ছাড়া, এটা দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ক্ষতিকর। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি ওসি’দের প্রতি মানবিক না হয়, অপরাধ দমনে সময় না দেয়া হয়, ভালো কাজের মূল্যায়ন না করে, তাহলে ওসি’রাও মাঠে গিয়ে জনগণের কষ্ট বুঝবে কি করে।জনবান্ধব ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের যেন পুরস্কার হিসেবে ‘বদলি’ না করে মাঠ পর্যায়ে মানবিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, বদলির আদেশ পেয়েছি, তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে বদলির আদেশ স্থগিত করে সময় দীর্ঘায়িত করার জন্য এসপি ও ডিআইজি বরাবর আবেদন করেছি, আশা করি তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আবেদনটি মঞ্জুর করবেন।