তদন্ত ঝুলে, অভিযোগ গুরুতর—স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কামরুলের নতুন কাণ্ডে চাঞ্চল্য”

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১৭:০৫

রিপন মিয়া , সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে :

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিতর্কিত প্রধান সহকারী (কাম) হিসাবরক্ষক কামরুল হাসান। এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪র্থ শ্রেণির প্রয়াত কর্মচারী সুফিয়া খাতুনের মেয়ে আরিফার কাছ থেকে তার মায়ের পেনশনের টাকা উত্তোলনের কথা বলে ৩ লাখ টাকা নেন কামরুল। পরে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি বুঝতে পেরে আরিফা তার টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান কামরুল। এ ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: ফয়সাল বিন ইউসুফ। অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী সার্জন ডা: মো: শরিফুল ইসলাম এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
এদিকে হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত কামরুল হাসান। জানা গেছে, তিনি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ঘুষ ও প্রতারণার দায় স্বীকার করে মুচলেকাও দিয়েছেন।
এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর হাসপাতালজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রধান সহকারী (কাম) হিসাবরক্ষক কামরুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্ত কমিটির সভাপতি জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: ফয়সাল বিন ইউসুফ বলেন, “আপনি অফিসে আসুন, আপনার যত প্রকার ইনফরমেশন লাগে দেয়া হবে।”
এ ব্যাপারে সিংগাইর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রাফসান রেজা বলেন, “অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ায় তদন্ত কমিটি কোনো রিপোর্ট সাবমিট করেনি।”
উল্লেখ্য, এর আগেও দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকা অবস্থায় কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ওই কর্মস্থলের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সাইফুল ইসলাম ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ১২টি অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করলে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর তিনি সিংগাইরে যোগদান করেন।
যোগদানের পরপরই ১২ জন নার্সের বেতন নির্ধারণের নামে ৪৮ হাজার টাকা এবং এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বদলির তদবিরে ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া সরকারি কোয়ার্টারে বিনা ভাড়ায় বসবাসের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নতুন এই অভিযোগে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কামরুল হাসান।