বেনাপোলে ইউনুস হত্যা মামলার আরও ২ আসামী আটক

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১৬:১৮

মসিয়ার রহমান কাজল,বেনাপোল: বেনাপোলের আলোচিত ইউনুস আলী (৪৭) হত্যা মামলার আসামী তরিকুল ইসলাম (৪০) এবং সবুজ হোসেন (২১)নামে আরও দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলামকে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি জানিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আটককৃত তরিকুল ইসলাম বেনাপোল পোর্ট থানার রহমতপুর বারপোতা গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে এবং সবুজ হোসেন একই গ্রামের আরাফাত হোসেনের ছেলে।
নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পৌরসভার ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। জানা গেছে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
পিবিআই জানায়, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের শেষ দিকে ইউনুসের স্ত্রী তাসলীমা খাতুন একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাসলীমা আনোয়ারের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করলেও পরে সেই সংসার ছেড়ে আবার ইউনুসের কাছে ফিরে আসে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আনোয়ার হোসেন ইউনুসকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ২২ এপ্রিল দুপুরে তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে রহমতপুর গ্রামে নিয়ে পলাতক আসামি রানার বাড়িতে আটকে রেখে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের চারা বটতলা এলাকায় হরিণাপোতার মাঠে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার পর নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআই যশোর তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পিবিআই যশোর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে যশোর শহরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে নিহতের স্ত্রী তাসলীমা খাতুনকে আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।