সুকুমার সরকার: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রখ্যাত সাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়সহ আরও অনেক মনীষীর জন্মস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগরোভ সুন্দরবন বিধৌত দক্ষিণ জনপদ খুলনা বিভাগ। ঐতিহ্যবাহী খুলনার আজ ১৯০তম জন্মদিন। ১৮৩৬ সালে রূপসা নদীর পূর্বপাড়ে তালিমপুর-রহিমনগরের সন্নিকটে কিসমত খুলনা মৌজায় নয়াবাদ নামে একটি থানা স্থাপন করা হয়। এ থানা স্থাপনের পূর্বে এ অঞ্চলের থানা ছিল যশোর জেলা সদরের মুড়লীতে। ১৮৪২ সালে খুলনা মহাকুমার যাত্রা শুরু হয়। এটি দেশের প্রথম মহকুমা। ইংরেজ এম এ জি শো মহকুমা প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট। উইলিয়াম রেনি নামে একজন নীলকর এ অঞ্চল শাসন করতেন। তার নাম অত্যাচারী শাসক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। ১৮৮২ সালে খুলনা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৮৪২ সালে খুলনা সদর, ১৮৬১ সালে সাতক্ষীরা এবং ১৮৬৩ সালে বাগেরহাট মহকুমা সৃষ্টি হয়। তখন খুলনা জেলার আয়তন ছিল ৪ হাজার ৬৩০ বর্গমাইল, লোকসংখ্যা ৪৩ হাজার ৫০০। ইংরেজ ডাব্লউ এম ক্লে খুলনার প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সেনা শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জমানায় ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট পৃথক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে খুলনা মুক্ত হয়।
খুলনার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়। বৃহত্তর উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি আজ শনিবার সকাল ১০টায় শিববাড়ি মোড় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। এছাড়া দুপুরে ঢালাও খানাপিনা। কেসিসি’র শাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এবারের খুলনা দিবসে আকর্ষণীয় আয়োজন স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিদের সম্মাননা।
এছাড়াও খুলনার স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিরা হচ্ছেন- ভাষা সংগ্রামী বেগম মাজেদা আলি, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ এনায়েত আলি, শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর ইমাম, অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ মাজহারুল হান্নান, প্রফেসর হারুন অর রশিদ, শিল্পপতি আব্দুল মান্নান, প্রকৌশলী আজাদুল হক প্রমুখ।
রবীঠাকুরের খুলনার নানা আয়োজনে ১৯০ বছর জন্মদিন পালন
প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৭:৫৭