টোকেন বাণিজ্যে পেট্রোল বিতরণে অনিয়ম, সরিষাবাড়ীতে গ্রাহকদের ক্ষোভ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১৭:০২

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে পেট্রোলও ডিজেল বিতরণে টোকেন বাণিজ্য, সিন্ডিকেটের দাপট ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মোটর সাইকেল মালিক ও কৃষকসহ সাধারণ গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজের ভিজিটিং কার্ডকে ‘টোকেন’ হিসেবে ব্যবহার করে প্রতি কার্ড ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব কার্ডধারীরা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ সাধারণ গ্রাহকদের পাশ কাটিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেট্রোল ও অকটেন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়ায় পেট্রোল বিতরণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মেসার্স ঝিনাই ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী স্বেচ্ছাসেবক সিন্ডিকেট পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে অভিযোগ করেন অনেকেই। অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত পেট্রোল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। যা কার্যত একটি অবৈধ বাণিজ্যেতে পরিণত হয়েছে। টোকেন ক্রয়কারী আশরাফ হোসেন, সুজাত আলী, নয়ন মিয়া, মিন্টু মিয়া, সাব্বির হোসেন, মামুন মিয়া ও আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করে সহজেই জ্বালানি পাওয়ার জন্য দুইশত টাকায় এ টোকেন ক্রয় করেছেন তারা। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল পাহারার নামেও আরোও অতিরিক্ত ১শত টাকা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, কেউ এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধামকি এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও অপমানের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি হুট হাট নেতা আবু সাঈদ সহ ভলান্টটিয়ার খ্যাত ব্যাক্তিরা একাধিক মোটর সাইকেলে বা বোতলে কিংবা কন্টিনে একাধিকবার পেট্রোল নিচ্ছেন। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে ভুট্টা ও ধান চাষাবাদের জন্য চলমান সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কৃষক রবিউল ইসলাম, শাহজাহান আলী, ওমর আলী জানান, প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। তাদের দাবি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহনের পরিবর্তে বাণিজ্যিক যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য হুমকিস্বরূপ। অভিযোগের বিষয়ে ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজ বলেন, “আমার ভিজিটিং কার্ড কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি কোনো ধরনের কার্ড বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নই। তিনি আরও জানান , এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি দায়ের করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ঝিনাই ফিলিং স্টেশন স্টেশনের প্রোপাইটার আনোয়ারুল কবীর তালুকদার তুহিন এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে স্থানীয়দের মতে, সরকারী নিয়ম নিতী তোয়াক্কা করছেন না। সে কারনেই মালিক পক্ষের নীরবতা এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্টেশনটিকে জরিমানা করেছিল প্রশাসন। আরোও উল্লেখ, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ ও ন্যায্য উপায়ে জ্বালানি বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিজা রিছিল জানান, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনিক দুর্বলতারই প্রতিফলন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।