ভি বি রায় চৌধুরী : দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় চলমান জাটকা সংরক্ষণ অভিযানে কোস্টগার্ডের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে লক্ষ্মীপুর জেলায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পহেলা মার্চ ২০২৬ইং থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং পর্যন্ত দুই মাস ব্যাপী বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভয়াশ্রম হিসেবে বিবেচিত।
এ প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। অভিযানটি পরিদর্শন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।
অভিযানে নৌ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকরাও অংশ নেন। তারা দুইটি নৌকায় মজু চৌধুরীর হাট থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন।
তবে ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মতিরহাট এলাকায় অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা জাটকা শিকারিদের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও সাহসী ভূমিকায় শিকারিরা তাদের জাল ও নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়।
অভিযান শেষে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং একটি মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়েছে। নৌকাটির বিষয়ে ৩০ এপ্রিলের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযানে কোস্টগার্ডের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “কোস্টগার্ডের নিজস্ব দায়িত্ব থাকে। রাতে তাদের সম্পৃক্ত করতে হলে পূর্ব থেকে সমন্বয় করতে হয়।”
উল্লেখ্য, জাটকা সংরক্ষণে প্রতিবছর এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।