শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে হাজারো মানুষের চাওয়া পাওয়ার স্বপ্নের আড়িয়াল খাঁ নদে নির্মাণাধীন কলাতলা-নিলখী সেতুর কাজ ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বরাদ্দকৃত চুক্তি মূল্য ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬৭০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও চর কামারকান্দি প্রান্তে জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। অপর প্রান্তের কাজ চলমান থাকলেও পুরো সেতু নির্মান কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, অসমাপ্ত সেতুটি চালু হলে শিবচর উপজেলা সদর থেকে রাজৈর, টেকেরহাট বন্দরসহ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত পথ প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা কমে আসবে। এতে করে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় পরিবর্তন আসবে।
অর্থ বছর ২০২৩ সালের ১ অক্টোবরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৯.৮৩ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়।
ভুমি অধিগ্রহণের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনেও তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি।অতিদ্রুত অর্থ প্রদানের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, এ সমস্যা সমাধান না করা হলে কাজ আরও দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বলেন, ভুমি অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত আসলেই স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হবে এবং প্রত্যেক জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের ন্যায্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা দ্রুত কেটে গেলে সেতুটি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হবে এবং রাজৈর-শিবচর-ভাঙ্গা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের দ্বার উন্মোচিত হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইউএনও এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভুমি অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য, ভুমি মন্ত্রনালয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের সিন্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।