ফুলবাড়িয়ায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ লাগাতে গিয়ে জীবন দিলে টেকনিশিয়ান হেলালের

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১৬:৩৭

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া সড়কের লক্ষীপুর বাজারে একটি ট্রান্সফরমারে ফিউজ লাগাতে গিয়ে জীবন দিলেন হেলাল উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফুলবাড়িয়ার একজন বেসরকারী টেকনিশিয়ান ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলাল উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। তিনি একই উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের চৌদার গ্রামের আ: কদ্দুসের পুত্র। তার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, হেলাল উদ্দিন মূলত উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের লাইনগুলো দেখাশুনা করেন। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা (লাহেড়িপাড়া) সদরের অফিসে আসেন এবং বাইকে পেট্রোল নেই বলে অভিমান করেন। পরে অফিসে কর্মরত একজন পাম্প থেকে পেট্রোল এনে দেন। দেওখোলা যাওয়ার সময় হেলাল উদ্দিনকে লক্ষীপুর বাজারের ট্রান্সফরমারের ফিউজটি কেটে যাওয়ায়, লাগিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়। তিনি কথামত লাইনটি অফ করিয়ে ট্রান্সফরমারের ফিউজটি লাগাচ্ছিলেন। ঐ সময় স্থানীয় কয়েকজন ওয়ারিং মিস্ত্রি সেখানে ছিলেন। হঠাৎ তারা দেখতে পান হেলাল উদ্দিন ট্রান্সফরমারে ঝুলছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হেলাল কে নিচে নামিয়ে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোঘণা করেন।
স্বজন ও নিকটাত্মীয়রা হেলাল উদ্দিনের এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তাদের দাবী বন্ধ লাইনে কাজ শেষ না হতেই কেন সংযোগ দেওয়া হল? এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক বিচার দাবী করেন।
আবাসিক প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার ধর বলেন, হেলাল আমাদের বেসরকারি লাইনম্যান (হেলপার)। আজকে ফিউজ লাগানোর বিষয়টি আমি অবগত নই। আমাদের অফিসের অন্য কারো সাথে হয়তবা যোগাযোগ করে কাজ করছিল। ঐ সময় লাইন বন্ধ ছিল। পল্লী বিদ্যুৎ এর সাথে আমাদের একটা লাইন ক্রস আছে সেখান থেকে সর্টসার্টিক হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা যাবে। বেসরকারী বিধি মোতাবেক পরিবার পাশে^ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দাঁড়াবে।