মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
অতিবৃষ্টি ও উজানের আগাম ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন মাস মেয়াদি বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে কার্ডের মাধ্যমে এই সহায়তা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
মঙ্গলবার (৫ মে) কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
এ সময় মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও এবারের অতিবৃষ্টি ও আগাম পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে নজরদারিতে রেখেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় কৃষকদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রতি মাসে ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্তরা ৫ হাজার টাকা এবং কম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক কৃষককে মাসে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
সচিব আরও জানান, সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে কার্ডের সাহায্যে এই সহায়তা বিতরণ করা হবে। তালিকা প্রস্তুতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে এবং একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পান।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে এই সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে কাজ করছে।’
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।