মাগুরার জিআই পন্য হাজরাপুরী লিচুর বাম্পার ফলন, শতকোটি টাকার বিক্রির আশা

প্রকাশিতঃ মে ১৫, ২০২৬, ১৬:০৩

 

মাগুরা থেকে আল এমরান: মাগুরা জেলার লিচুর খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি চাষীরা। জেলায় গড়ে উঠেছে তিন হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক লিচু বাগান। যা এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এবার জেলায় শতকোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে এমনটি আশার করছে কৃষি বিভাগ।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জিআই স্বীকৃতি প্রাপ্ত হাজরাপুরী জাতের লিচু এ জেলায় উপাদিত লিচুর সুনাম বাড়িয়েছে সারা দেশে। জেলার সদর উপজেলার হাজরাপুর, হাজীপুর, মির্জাপুর, রাঘবদাইড়, ইছাখাদা, শিবরামপুর, নাড়িহাটি ও শ্রীপুর উপজেলার প্রায় ৪০ গ্রামে আগাম জাতের ‘হাজরাপুরী লিচু’ সংগ্রাহের কাজ শুরু করেছে লিচু চাষীরা। এ লিচুর পাশাপাশি জেলায় মুজাফফুরী, বোম্বাই, চায়না-৩ ও দেশি জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে যা আরো দুই সপ্তাহ পরে সংগ্রহ শুরু হবে। বাজারে গুঞ্জন আছে কিটনাশক ও ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করা অপরিপক্ক লিচু খেয়ে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে ফুল আসা থেকে শুরু করে ফল ধারন ও ফল পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত দেখভাল করছে কৃষি বিভাগ।

মাগুরার একমাত্র জিআই পন্য হাজরাপুরী লিচুর অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এ লিচুর খোসা পাতলা, রসালো, সুস্বাদু এবং মিষ্টি ঘ্রানসমৃদ্ধ। এ লিচু কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকার পরে মেজেন্টা রঙ হয়। লিচু গাছের সংরক্ষণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। আগাম এ জাতের লিচু মে-মাসের শুরুতেই ফল সংগ্রহ করা যায়।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের লিচু চাষী উমর ফারুক বলেন, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আগাম হাজরাপুরি লিচুর দাম সন্তোষজনক। বর্তমানে এ লিচু প্রতি একশত বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা যা চাষিদের জন্য মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

সদর উপজেলার শিবরাপুর গ্রামের লিচু চাষী ফেরদৌস আহমেদ দিদার জানান, গাছ থেকে লিচু পাড়ার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে লিচুতে কিটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করেছি। সকল বয়সের মানুষই এ লিচু খাবে যাতে কেউ অসুস্থ না হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা কিটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করি।

ঢাকা থেকে আসা লিচুর পাইকার জামাল শেখ জানান, মাগুরায় হাজরাপুরী লিচু জিআই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সারা দেশে এর একটা সুনাম রয়েছে। মানুষের কাছে এর চাহিদাও একটু বেশি। আশা করছি ঢাকায় নিয়ে ভাল দামে বিক্রি করতে পারবো।

লিচু বাগানে পরিচর্চার কাজে নিয়োজিত আলিম বিশ^াস জানান, লিচু মৌসুমে লিচুর ফুল আসার আগমূহুত থেকে শুরু করে বাগান পরিচর্যা, লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাত করণ সব জায়গায়তেই জেলার এক শ্রেণির মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এতে মাগুরার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: তাজুল ইসলাম জানান, এবার জেলায় মোট ৬৭১ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। মাগুরার একমাত্র জিআই পন্য হাজরাপুরি লিচু। এ হাজরাপুরি লিচু বাজারে আগে আসে এ জন্য দাম বেশী পাওয়া যায়। এই লিচু বাণিজ্যিকভাবে শত কোটি টাকার বিক্রি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মাগুরার লিচু চাষীরা জিআই হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া হাজরাপুরী লিচুর সুনাম ও খ্যাতি ধরে রেখে বিষমুক্ত ও পরিপক্ক লিচু বাজারে আনবে এমনটি প্রত্যাশা লিচু প্রেমীদের।