সাভার থেকে, ফাহাদ-ই-আজম : সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মডেল মসজিদের পাশে প্রায় এক একর সরকারি জমি দখল করে হকার পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাভার পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে কয়েকশ’ হকার ওই সরকারি জায়গায় প্রবেশ করে স্টিলের শিটের বেড়া ভেঙে দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেয়। এ সময় তারা শতাধিক ছোট ছোট চৌকি বসিয়ে এবং রশি টানিয়ে নিজেদের দখল অবস্থান নির্ধারণ করে রাখে।
খবর পেয়ে সোমবার (১১ মে) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে ইউএনও সাইফুল ইসলাম হকারদের উদ্দেশে বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া সরকারি জমি ব্যবহার করা যাবে না। বেড়া ভেঙে সরকারি জমি দখল করা অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি হকারদের সোমবারের মধ্যেই জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দ্রুত অন্যত্র পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে অন্যথায় সাভারে এক একর সরকারি জমি দখল করে হকার পুনর্বাসনের অভিযোগ
সাভার থেকে, ফাহাদ-ই-আজম : সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মডেল মসজিদের পাশে প্রায় এক একর সরকারি জমি দখল করে হকার পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাভার পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে কয়েকশ’ হকার ওই সরকারি জায়গায় প্রবেশ করে স্টিলের শিটের বেড়া ভেঙে দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেয়। এ সময় তারা শতাধিক ছোট ছোট চৌকি বসিয়ে এবং রশি টানিয়ে নিজেদের দখল অবস্থান নির্ধারণ করে রাখে।
খবর পেয়ে সোমবার (১১ মে) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে ইউএনও সাইফুল ইসলাম হকারদের উদ্দেশে বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া সরকারি জমি ব্যবহার করা যাবে না। বেড়া ভেঙে সরকারি জমি দখল করা অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি হকারদের সোমবারের মধ্যেই জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দ্রুত অন্যত্র পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার হুঁশিয়ারিও দেন। তবে প্রশাসনের এ সতর্কবার্তার পরও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে দখলমুক্ত সরকারি এ জমি প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টিলের শিট, লোহার অ্যাঙ্গেল ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায় রোববার গভীর রাতে কতিপয় হকার্স নেতার সহযোগিতায় শতাধিক হকার সাভার পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহার করে স্টিলের শিট, লোহার অ্যাঙ্গেল ও সিমেন্টের খুঁটি ভেঙে ফেলে। পরে তারা পুরো জায়গাজুড়ে বাঁশ ও রশি দিয়ে ঘেরাও করে বিভিন্ন দোকানের জন্য আলাদা আলাদা স্থান নির্ধারণ করে। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে সংঘটিত হয়েছে। সোমবার সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে হকারদের সরে যেতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে হকারদের বুঝিয়ে স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে, সরকারি জমি ঘিরে রাখা টিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে বা কারা সরিয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। এছাড়া সরকারি জমি দখলে পৌরসভার বুলডোজার কীভাবে এবং কার নির্দেশে ব্যবহার করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার জানান, হকার্স নেতাদের নির্দেশেই তারা সেখানে বসেছেন। তাদের দাবি, “উপর মহলের” সঙ্গে কথা বলেই ওই জায়গায় দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, রাতের আঁধারে সরকারি জমি দখলের ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) আব্দুল হামিদের কাছে পৌরসভার বুলডোজার সরকারি জমি দখলে কীভাবে ব্যবহৃত হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ঘটনার কিছুই জানি না। দুপুরে শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেছে। তারা যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সাভার পৌর প্রশাসক ও ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। মঙ্গলবার (১২ মে) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের উচ্ছেদ করে প্রশাসন। এরপর কয়েক দফায় হকাররা পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত ৮ মে শুক্রবার বিকেলে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এর দুই দিনের মাথায় এবার মডেল মসজিদের পাশের সরকারি জমি দখল করে নতুন করে হকার বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সাভারে এক একর সরকারি জমি দখল করে হকার পুনর্বাসনের অভিযোগ
প্রকাশিতঃ মে ১২, ২০২৬, ১০:৪০