আর যেন ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের হাতিয়ার না হয় পুলিশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ মে ১০, ২০২৬, ০৪:২৬

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’

রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আয়োজিত ‌‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যেখানে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপরে হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর শহীদ সব সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’

শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে সব শহীদ পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার উই রিভল্ট, অপরদিকে, ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ, এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম, আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন হয়তো রয়েছে।’

‘১৯৭১ সালে উত্তাল মার্চে জনগণ যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টানটান উত্তেজনা, এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যখন ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যারা এখনো গবেষণা করছেন, এটি এখন তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।’