দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তেবিজিবির কঠোর নজরদারি

প্রকাশিতঃ মে ১১, ২০২৬, ০৬:২৩

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির জয়ের পর সেখানে ব্যাপক হাঙ্গামা-রক্তক্ষয়ের প্রেক্ষিতে ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী অপরাধ ঠেকাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, শক্তিশালী করা হয়েছে টহল কার্যক্রম এবং মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য। ফলে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সূত্রমতে, দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের পুশব্যাকের আশংকা করা হচ্ছে। যে কারণে বিজিবিকে বেনাপোল ও ভোমরা স্থল বন্দর সীমান্ত এলাকাসহ ১৭টি সীমান্তঘাটে কড়া নজরদারির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিধান সভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র বিজয়ের পর সীমান্তে পুশব্যাক ইস্যুতে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সীমান্তে যেমন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তেমনি নৌরুটেও চলছে কড়া নজরদারি।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মানবাধিকার কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সীমান্ত এলাকায় পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা টহল জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার জানিয়েছেন। এদিকে বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ কেসিসি প্রশাসক সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থানে আছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রভাব এ অঞ্চলে তথা দেশে নাও পড়তে পারে। কিন্তু পুশব্যাকের চেষ্টা করা হলে সেটি হবে রাজনৈতিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

ইতোপূর্বে বিএসএফ বাংলাদেশীদের ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন চরে রেখে যাওয়ার ঘটনায় সতর্ক কোষ্টগার্ড র‌্যাব ও বনবিভাগ। পাশাপাশি বাড়ছে বিএসএফ’র সহযোগীতায় চোরা চালান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি র‌্যাব কোষ্টগার্ড বনবিভাগ ও পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গেল বছর দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৫শ’ জন বাংলাদেশীকে পুশব্যাক করেছে বিএসএফ। ধারণা করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের রেশ ধরে যে কোন মুহুর্তে এ অঞ্চল দিয়ে পুশব্যাকের ঘটনা অতীতের তুলনায় অধিক হারে মাথচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পুশব্যাক নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেক্ষেত্রে সাতক্ষীরার ও যশোরের ১৭টি অবৈধ ঘাট দিয়ে পুশব্যাকের ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া সুন্দরবনের নৌ রুটে লোমহর্ষক পুশব্যাকের ঘটনাও ঘটেছে। অতি সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চাড়ালডাংগা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই রাতের আধারে ভারত থেকে তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়া হয়। এর আগে গত ২১ নভেম্বর গভীর রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই শিশুসহ মোট ১০ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ব্যাক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গত ২৭ মে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী সীমান্ত দিয়ে ২৩ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ১৩ মে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা সংলগ্ন পশ্চিম সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ব্যাক করা ৭৮ জনের মধ্যে ৭৫ জন বাংলাদেশী। অন্য তিনজন ভারতীয় নাগরিক। সুত্রটি জানায়, বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভারতীয় ভবঘুরে আশ্রয়হীন অসুস্থ নাগরিকদেরকেও বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ পাশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা শহরে অপরিচিত লোকদের আনাগোন বৃদ্ধি পেয়েছে। সেসব বিষয়ও সর্তক দৃষ্টি রাখছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে ভারতের বিধান সভা নির্বাচনের আগে ও পরে পশ্চিম বঙ্গে বেশ কিছু বাংলাদেশীদের আটক করা হয়েছে। নতুন করে আটকের জন্য অভিযান এবং নজরদারিতে রয়েছে অনেক বাংলাদেশী নাগরিক। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেসব ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা বাংলাদেশের আত্মীয় স্বজনদের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছে। যে কারণে সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি কোষ্ট গার্ড র‌্যাব ও বনবিভাগ সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করেছে।

৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুশব্যাক, সীমান্ত সুরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন।

খুলনা নাগরিক আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক এনায়েত আলী বিশ^াস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র বিজয়ের পর পুশব্যাকের ঘটনার আশংকা করছি আমরা। দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাকের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আমাদের ধারণা। তাই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে।