ভালুকার নলুয়াকুড়িতে তিন দশকের মানবসেবায় ফাদার বেন্জামিন গোমেজ

প্রকাশিতঃ মে ৮, ২০২৬, ১৪:০৫

ভালুকা থেকে তমাল কান্তি সরকারঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আওলাতলী গ্রামের নলুয়াকুড়ি ক্যাথলিক মিশন—যা ‘সাধুগুইডো মারিয়া কনফোর্টি ধর্মপল্লী’ নামে পরিচিত—সেখানে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ফাদার বেন্জামিন গোমেজ এসএক্স।
১৯৯১ সালে সুদূর স্পেন থেকে বাংলাদেশে আগমন করেন তিনি। পরবর্তীতে ভালুকায় দায়িত্ব গ্রহণ করে হতদরিদ্র, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে তিনি এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় এই ধর্মযাজক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তাঁর উদ্যোগে এলাকায় নির্মিত হয়েছে লাউতি নদীর ওপর একটি সেতু, স্থাপিত হয়েছে ২৪টি ফিডার স্কুল, ১৭টি ইন্টাভিটা স্কুল এবং ৯টি এডুকো শিক্ষালয়।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক মানের ছেলে হোস্টেল ও মেয়েদের জন্য ‘রোজলীন হোস্টেল’ গড়ে তোলা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে টেকনিক্যাল স্কুল (এনটিএস), যেখানে সেলাই, অটোমোবাইল, ইলেকট্রিসিটি, ওয়েল্ডিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায়ও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। ‘ফাদার ত্বনীয় মেমোরিয়াল’ নামে ২৫ শয্যার একটি মিশন হাসপাতালের মাধ্যমে অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও ভূমিহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।
সমাজ উন্নয়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রসারে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নলুয়াকুড়ি কুমারী মারিয়া আধুনিক উচ্চ বিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠান তাঁর উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ফাদার বেন্জামিন গোমেজ শুধু একজন ধর্মযাজক নন, তিনি মানবতার সেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ভালুকার মানুষের ভালোবাসার মাঝে থাকতে চান।
মানবকল্যাণে তাঁর এই দীর্ঘ অবদান ভালুকা অঞ্চলে উন্নয়ন ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।