মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিমিধি
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শিক্ষার্থীসহ ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
শহরের অলিগলিতে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বন্ধ করা এবং কিশোরদের সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরাতেই ছিল এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যহীন আড্ডা অনেক সময় মাদকাসক্তি কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি তৈরি করে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর বয়সী (নবম-দশম ও ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের) শিক্ষার্থীদের এই অভিযানের আওতায় আনা হয়।
অভিযান চলাকালে শহরের নরসুন্দা নদীর লেকপাড়, অন্ধকার ও নির্জন এলাকাগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা ৪৪ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি বখাটে ও উদ্দেশ্যহীনভাবে রাতে বাইরে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে আনা হয়। অভিভাবকরা উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দিয়ে তাদের সন্তানদের নিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং অভিভাবকদের সচেতন করা এবং কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। তবে প্রাইভেট পড়া, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের এই অভিযানের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আটককৃত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই বয়সটা খুবই সংবেদনশীল। সন্তানরা যেন ভুল পথে না যায়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি নজরদারি বাড়াতে হবে। তাদের সময়, বন্ধু-বান্ধব ও চলাফেরার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে গুরুত্ব দেওয়া। সন্তানের সফলতাই একদিন বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়।’
এদিকে, অনেক অভিভাবক পুলিশের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শহরে কিশোর গ্যাংয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের অভিযান সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।