এসএম সুমন রশিদ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় টানা দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এলাকা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, অবিরাম বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় তারা কাজে যেতে পারছেন না, ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমতলী আব্দুল্লাহ মার্কেটের ভিতরে চা ও ফাস্টফুট বিক্রেতা জহিরুল বিশ্বাস বলেন,আমার দেকানে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করি কিন্তু গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারিনাই।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। দুর্গত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করছি। পাশাপাশি সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কিছু আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।