ডিজেলের ড্রামে পড়ে শিশুর মৃত্যু ! পানি আনতে গিয়ে নিভে গেল বংশের প্রদীপ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১৬:১৭

গাইবান্ধা থেকে মিলন খন্দকার: একমাত্র সন্তান হারানোর পাথরচাপা কষ্ট সহ্য করতেই পারছেনা বাবা আশিকুর রহমান বাবু ও মা শাহা

নাজ দম্পতি। নিঃ সন্তান হয়ে গেছেন তারা। বংশের প্রদীপ আরাফ ছিল খুবই আদরের। তাদের বুকফাঁটা আত্মনাদে এবং শিশু আরাফের এই অকালমৃত্যুতে স্বজন ও পালানপাড়া সহ কয়েক গ্রামের মানুষ শোকাহত।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, গত সোমবার দুপুরের দিকে আশিকুর রহমান বাবুর ট্রাকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেটি মেরামত করার জন্য ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে রুবেলের গ্যারেজ নিয়ে যায়। সেখানে ট্যাংকি থেকে প্রায় ৫০ লিটার তেল নামিয়ে এনে বাড়ীর বারান্দায় একটি মুখ কাটা হাফ ড্রামে রাখেন ট্রাক মালিক বাবু।

পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে বাবু ভাত খেতে বসেন। এসময় স্ত্রী শাহানাজ বেগম সাড়ে তিন বছরের শিশু আরাফকে কোল থেকে নামিয়ে রেখে পানি আনতে যান। এরই ফাঁকে শিশু আরাফ তেলের ওই ড্রামে পড়ে যায়। পড়ে বাবা-মা আরাফকে উদ্ধার করে নিকটস্থ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতেই শিশু আরাফকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে মারা যায় আরাফ।

মেকার রুবেল মিয়া জানান, ডিজেলের ট্যাংকিতে দুটি ফুটো দিয়ে চুয়ে চুয়ে তেল পড়ছিল।
তখন ডিজেলের ট্যাংকি থেকে একটি ড্রামে প্রায় ৫০ লিটার ডিজেল নামানো হয়। পরে সেই ডিজেলগুলো আমার কাছে রাখতে চাইলে আমি রাজি না হওয়ায় রাতেই তেলগুলো বাড়িতে নিয়ে যান ট্রাক মালিক বাবু। এরপর আজ ঘটনা শুনে খুবই খারাপ লাগছে। কিছুই ভালো লাগছে না।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) হাবিবুল ইসলাম জানান, এমন মর্মান্তিক ঘটনা খুবই দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এসংক্রান্তে থানায় একটি জিডি হয়েছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, এমন ঘটনা অত্যান্ত হৃদয়বিদারক।ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বুধবার বাদ মাগরিব জানাযা শেষে আরাফকে পারাবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।