সাবেক মহকূমা পটিয়া’কে জেলা ঘোষনার দাবি জানিয়েছেন সংসদে এনামুল হক এমপি

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১৮:৪৯

সেলিম চৌধুরী, পটিয়া (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৮ উপজেলাকে নিয়ে সাবেক মহকুমা পটিয়াকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ দুটি প্রস্তাব তুলে ধরে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল জনপদ হওয়া সত্ত্বেও পটিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অবহেলিত। বিপুল জনসংখ্যা ও বিস্তৃত এলাকার তুলনায় বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত অপ্রতুল।এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পটিয়াকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে , কমবে সেবাগ্রহণের জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ। পাশাপাশি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হলে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পটিয়ার জনগণের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। উল্লেখ্য ১৯৫৮ সালে পটিয়া মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করে বাশখালীর জাকেরুল হক চৌধুরীকে গর্ভনর নিয়োগ করেছিলেন। ১৯৭৫ এর ১০ সেপ্টেম্বরের পটিয়া জেলা উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে পটিয়া জেলা আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ সদর মহকুমাকে পটিয়া মহকুমা হিসবে পটিয়ায় সদর দপ্তর স্থাপন করেন। সেই থেকে দক্ষিণ চট্রগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পটিয়ার নবযাত্রা শুরু হয়। এর পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার প্রধান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এক অধ্যাদেশে দেশের সকল মহকুমাকে জেলায় উন্নীতের ঘোষনা দেন।কিন্তু তিনি ১৯৮৪ সালে বৈষম্যমূলক ভাবে পটিয়া হাই স্কুল মাঠে এক জনসভায় পটিয়ার বাইরের এক নেতাকে এমপি হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করলে সংসদ নির্বাচনের পরে পটিয়াকে জেলা করার ঘোষণা দিলে লক্ষাধিক লোকের এ জনসভায় এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে পটিয়ার নায্য দাবি পটিয়া মহকুমা জেলায় উন্নীতের প্রক্রিয়াটি উপেক্ষিত থেকে যায়। বিভিন্ন সময়ে সরকার প্রধানরা নির্বাচনী সভা সমাবেশে সরকার গঠন করলে পটিয়ার নায্য দাবি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললে ও কেউ কথা রাখেনি।১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নের্তৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে পটিয়া জেলার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এ সময় দক্ষিণ চট্রগ্রাম অচল হয়ে পড়ে। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী জহির উদ্দিন খান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এ বিষয়ে সভা ডেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিলে ও পটিয়া বিদ্বেষি সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী কর্নেল অবসর অলি আহমদের ষড়যন্ত্রে তা ভেস্তে যায় বলে রাজনৈতিক সচেতন মহল সুএে জানা যায়। এরপর ও দাবিটি সামনে আসলে ও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এতদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েই সংসদে পটিয়াবাসীর প্রাণের দাবি তুলে ধরায় আবার নড়েচড়ে বসেছে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার পটিয়াবাসী। তারা সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে এ জনপদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বার্থে এ দাবিটি বিবেচনায় নিয়ে পটিয়াকে জেলা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সংসদে চট্টগ্রাম (১২ পটিয়া) আসনের নবনির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম জেলা ঘোষণার দাবি উপস্থাপন করায় পটিয়াবাসী ধন্যবাদ জানান।