সংরক্ষিত নারী আসনে দুই চাচাতো-জেঠাতো বোনের প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপিতে যোগ্যতা বনাম ঐতিহ্যের লড়াই

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১৬:৪২

সরিষাবাড়ী ( জামালপুর) প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে জামালপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ১৪১-জামালপুর-৪(সরিষাবাড়ী) আসনের একই পরিবার থেকে উঠে আসা দুই চাচাতো-জেঠাতো বোন সাদিয়া হক ও সালিমা তালুকদার আরুণীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা নিয়ে বিস্তর আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে তৃণমূলে । তাদের প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপিতে যোগ্যতা বনাম ঐতিহ্যের লড়াই বলেও মন্তব্য ছুড়েছেন দলের ত্যাগী নেতারা।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রানালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) সাবেক মহাসচিব ও বর্ষীয়ান জননেতা ব্যারিস্টার প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদার এর কন্যা সালিমা তালুকদার আরুণী দীর্ঘদিন ধরে পিতার রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তৃণমূলের একাংশের দলীয় নেতা-কর্মীদের মন্তব্য, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪১-জামালপুর -৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে সংসদ সদস্যপদে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তাই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা হবে একজন ত্যাগী ও দূরদর্শী নেতার অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন।
অপরদিকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় সাদিয়া হক নিজেকে একজন পরীক্ষিত ও সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন, গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতবাস করেছেন তিনবার এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও দলীয় আদর্শে অবিচল থেকেছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সাথে-পাশে থেকে দলীয় কর্মসূচী করেছেন এবং তার সফর সঙ্গীও হয়েছেন কয়েকবার। এসব অভিজ্ঞতা তাকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিকট আস্থার প্রতীক করে তুলেছেন। তাকে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি তার রাজনৈতিক দক্ষতারও স্বাক্ষর রেখেছেন।
তাদের যোগ্যতার ভিন্ন মাত্রার প্রতিযোগিতায় দুই প্রার্থীর শক্তির জায়গা ভিন্ন হলেও উভয়েই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমানভাবে আলোচনার সাথে মানানসই। প্রার্থী সালিমা তালুকদার আরুণী’র ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে রাজনৈতিক ঐতিহ্য,পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি। অন্যদিকে, সাদিয়া হকের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা,ত্যাগ,আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই মূল শক্তি তার।
এ ব্যাপারে বংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ আজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই জনের মধ্যে মনোনয়ন যিনিই পান না কেন, সিদ্ধান্তটি যেন যোগ্যতা, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিবে। যে প্রার্থী দলকে সুসংগঠিত করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে তাকেই মনোনীত করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তিনি। দুই প্রার্থীর দৃষ্টি এখন হাই কমান্ডের দিকে। তাই রাজনৈতিক ও সচেতন মহল বলছে, চাচাতো -জেঠাতো দুই বোনের এই মনোনয়ন প্রতিযোগিতা কেবল একটি আসনকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দলের অভ্যন্তরে মূল্যায়নের মানদণ্ড ও নেতৃত্ব নির্বাচনের দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি প্রতিফলন হিসেবে বিবেচ্য হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও সচেতন মহল ।
এখন সবার চোখ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন। সেটিই নির্ধারণ করবে এই আলোচিত প্রতিযোগিতার পরিণতির ফলাফল।