স্টাফ রিপোর্টার : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ মফিদুল ইসলাম (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
অদ্য ০৯/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে দুপুর ১২:৫০ ঘটিকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী ক্যানোপি-২ এর খোলা কার পার্কিং এলাকা থেকে মফিদুল ইসলাম (৪৩) নামীয় এক ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুকৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে এয়ারপোর্ট এপিবিএন ফোর্স তাকে আটক করে। ধৃত ব্যক্তি উমরাহ্ হজ কাফেলার মোয়াল্লেম হিসেবে অদ্য তারিখে SV808 ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে আনুমানিক ১০:৫০ ঘটিকায় অবতরণ করেন। আটক মফিদুল ইসলাম (৪৩) খুলনা জেলার লবণচরা থানার বাসিন্দা।
আটককৃত ব্যক্তিকে এপিবিএন অফিসে নিয়ে এসে শরীর তল্লাশি করলে তার সঙ্গে থাকা হাতব্যাগ থেকে ৪৯৯.১ গ্রাম স্বর্ণ এবং ৯,০০০ (নয় হাজার) ইউএস ডলার, ৮,৫০১ (আট হাজার পাঁচশত এক) সৌদি রিয়াল, ১,৮০০ (এক হাজার আটশত) মিশরীয় পাউন্ড, ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) রোমানিয়ান লিউ এবং ৮০,১১৭/- (আশি হাজার একশত সতেরো) টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারসমূহের আনুমানিক বাজারমূল্য সর্বমোট ৮৩,৮৪,৮৮০/- (তিরাশি লক্ষ চুরাশি হাজার আটশত আশি) টাকা। উল্লেখ্য, স্বর্ণালংকারগুলোর মান ২১ ক্যারেট।
ধৃত আসামি মফিদুল ইসলাম (৪৩)-কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারসমূহ বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং রিসিভার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন বলে জানা যায়।
ধৃত মফিদুল ইসলাম (৪৩)-এর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় অদ্য ০৯/০৪/২০২৬ খ্রি. একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামি অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ পন্থায় সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ আনয়ন করে নিজ হেফাজতে রেখে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি) ধারায় অপরাধ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন,
“বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান রোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো চোরাচালান রোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”