নুর আলম ভূঁইয়া, ডেমরা (ঢাকা): রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ডিএনডি খালের অভ্যন্তরে বসবাস রত সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অন্যতম এক মাত্র ডিএনডি খালের ওপর ২০০৯ সালে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয় । এ সেতুতে প্রতিদিন প্রায় ৩ লক্ষাধিক লোকের যাতায়াত। সেতুটি দুই লেনে নির্মান করার কথা থাকলেও পরে এক লেনের একটি সরু সেতু নির্মাম করা হয়। যে কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই সেতু ব্যবহারকারীদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। যে কারণে সেতুটি প্রশস্ত করার বদলে সরু করে নির্মাণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ডেমরার যাত্রাবাড়ী সড়কের স্টাফ কোয়ার্টার বাস স্্যান্ড থেকে ডিএনডির ভেতরে ঢুকতে সবচেয়ে ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। হাজীনগর, সারুলিয়া, বড় ভাঙ্গা, কোদাল ধোয়া, ডগাইর, মুরগির ফার্ম, সাইনবোর্ড, মাতুইল নিউটাউনসহ আশপাশের এলাকার ৩ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সেতুটি সরু হওয়ায় এ সেতুতে চলাচলকারী সাধারন মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ সেতুটি প্রশস্ত করে পুনর্নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় এমপি এবং সংস্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন, তদবির করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোনো কাজেই আসজে সাধারণ মানুষের এ জনদাবি। জানা গেছে, ডিএনডি খালের ওপর আগে একটি বেইলি ব্রিজ ছিল। ২০০৯ সালে সেটি সরিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তখন সেতুটি দুই লেনের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পরে সেটি এক লেনের করা হয়। বিগত দিনগুলোয় এলাকার লোকজন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে সেতুটি প্রশস্ত করতে একাধিকবার দাবি জানায়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
দেখা গেছে, সেতুটির দুই পাশে বাঁশের ডেমরার ডিএনডি খালের সরু সেতু পার হতে ভোগান্তি স্থানীয়দের
বেষ্টনী দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সেতুতে বড় কোনো যানবাহন উঠতে না পারে। এ ব্যবস্থা করা হয়েছে শুধু মানুষের অবাধ চলাচলের জন্য।
হাজীনগর এলাকার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি আরও চওড়া হওয়ার কথা ছিল। তখনকার ঠিকাদার এবং এলজিইডির কতিপয় ইঞ্জিনিয়ার মিলে লুটপাট করার কারণে এ সেতুটি একদম সরু করা হয়েছে। এখন এ সেতু দিয়ে আমরা কোনো মালপত্র পরিবহন করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম রেজা সেলিম ও সুগ্ন আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বলেন, বতমার্নে আমাদের ঢাকা দক্ষিন সিটিকরপোরেশনের মাননীয় প্রসাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাম মহোদয় এ ব্রিজটি বিজিট করেছেন এবং এলাকাবাসীদের আসস্থ করেছেন যে করেই হোক এ জনগুরুত্ব পূর্ন সেতুটি পূর্ননির্মান করে জন দূর্ভোগ লাগব করা হবে এবিষয়ে সংস্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে প্রশাষক মহোদয় অলরেডি নির্দেশ দিয়েছেন যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাবস্তা নেয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ৮—এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহির দৈনিক জনতা কে বলেন, আমার উর্ধতন কতৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্দ নিয়েছেন তারই ধারাবাহিকতায় আমি সেতুটি পরিদর্শন করেছি। এবং এ বিষয়ে কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আগে এ সেতুর উন্নয়ন কাজ করত এলজিইডি। কিন্তু এখন সিটি করপোরেশন করবে। এটা নিয়ে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। ওয়াসা থেকে একটি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) লাগবে। কারণ, ডিএনডির এ খালটি ঢাকা ওয়াসা ব্যবহার করছে। তাদের থেকে এনওসি পেলে কাজ করব।