ডিব্রুগড়ে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী শিল্পী নেহা তির্কির সাংবাদিক সম্মেলন::বিজেপির শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট অসমের চা-জনগোষ্ঠী

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১৮:৩৫

প্রতিনিধি ডিব্রুগড়, ৩ এপ্রিলঃ“অসমের মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। অসমের চা-জনগোষ্ঠীর মানুষ বিজেপির শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট।” আজ ডিব্রুগড়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এভাবেই বিজেপির সমালোচনা করেন ঝাড়খণ্ডের কৃষি, পশুপালন ও সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী শিল্পী নেহা তির্কি।ডিব্রুগড়ের হোটেল টি কাউন্টিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী শিল্পী নেহা তির্কি আরও বলেন, বিজেপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, ক্ষমতায় আসার পর সেসবের একটিও পূরণ করেনি। বিজেপি ক্ষমতায় এসেই চা-বাগানের শ্রমিকদের ক্ষতির কারণ হতে পারেক এমন বহু আইন সংশোধন করেছে।২০২২ সালে সরকার ‘আসাম ফিক্সেশন অব সিলিং অন ল্যান্ড অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ সংশোধন করে। এই আইনের সংশোধনের মাধ্যমে চা-বাগানের ১০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক হারে চা-বাগানে হোটেল ও রিসর্ট খোলা হয়েছে। বাগানে বসবাসকারী ও কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা এতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তারা নিজেদের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন।

বন্যহস্তী করিডর অঞ্চল, বিশেষ করে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান এবং কার্বি আংলং-এর মধ্যবর্তী এলাকাতেও এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু তাদের কথা শোনার মতো কারও সময় হয়নি, কারণ সরকার নিয়মই বদলে দিয়েছে—শুধুমাত্র নিজেদের কর্পোরেট গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দেওয়ার দিকেই গুরুত্ব দিয়েছে।
বিজেপি চা-জনগোষ্ঠী, চা- বাগানের শ্রমিকদের পাশাপাশি অসমের বিস্তীর্ণ জমিও বৃহৎ পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দিয়েছে। একই প্রসঙ্গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তির্কি আরও বলেন, তেল উত্তোলনের জন্য বিঘার পর বিঘা চা-বাগানের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তিনসুকিয়া জেলার দীঘলতরং নামের একটি চা-বাগানে প্রায় ১৪৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অধিগ্রহণের সময় কর্মচারী বা স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, এবং তাদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণেরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এটি শুধু একটি উদাহরণ। এভাবে বহু চা-বাগানে আইন- কানুন উপেক্ষা করে তেল উত্তোলনের জন্য বাগানের জমি অয়েল কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে বৃহৎ পরিসরে তেল উত্তোলনের ফলে গ্যাস নির্গমন ও দূষণ বেড়েছে, যার কারণে চা-বাগানের মূল প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।অসমের চা-নিলাম ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী তির্কি বলেন, অসমে চা উৎপাদন হয়, কিন্তু নিলাম হয় কলকাতায়—এটা কেন? পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদন ২৫ শতাংশেরও কম। তবুও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকা সত্ত্বেও গত ১০ বছরে চা-নিলাম কেন্দ্র অসমে নিয়ে আসার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।এসব দেখে স্পষ্ট হয় যে, বহুদিন ধরেই নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে চা-বাগানগুলো ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের জীবিকা বিপদের মুখে পড়েছে। যদি এই সরকার আবারও ক্ষমতায় আসে, তাহলে এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে এবং স্থানীয় মানুষদের নিজেদের কোনো জমিই আর থাকবে না।এই ভয় ও উদ্বেগের কারণেই মানুষ পরিবর্তন চায়, এবং সেই পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি তারা গৌরব গগৈ ও কংগ্রেস দলে দেখছে।ছয় জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী তির্কি বলেন, মানুষের মনে সন্দেহ রয়েছে—কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে তাদের জন্য কী করবে? কিন্তু এর আগে তরুণ গগৈ সরকারের সময়েও এই বিষয়ে অনেক কাজ করা হয়েছিল। প্রস্তাব গৃহীত করে বিষয়টি রেজিস্টার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র কাছে পাঠানো হয়েছিল। কোনো জনগোষ্ঠীকে তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দিতে হলে রেজিস্টার জেনারেল অব ইন্ডিয়া তালিকা প্রস্তুত করে।
গত ১০ বছরে বিজেপি সরকার এই বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের সরকার এলে, যেসব জনগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই অন্য রাজ্যে এই মর্যাদা পেয়েছে, তাদেরও একই অধিকার দেওয়ার জন্য আমরা দৃঢ় প্রচেষ্টা চালাব।
আমাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—যারা যে অধিকারের যোগ্য, তাদের সেই অধিকার দেওয়ার জন্য আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।