কিশোরগঞ্জে অর্ধশতাধিক মানুষকে কামড়ানো সেই কুকুরটিকে পিটিয়ে মারলো স্থানীয় জনতা

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১৮:৩২

মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অন্তত ৫০জনকে কামড়ে আহত করা বেওয়ারিশ সেই কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্থানীয় লোকজন। পরে মরা কুকুরটিকে অটোরিক্সায় করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার (৩এপ্রিল) সকালে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে বৃস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার হোসেন্দী, নারান্দী, পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন ও পাকুন্দিয়া পৌর এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত হন অন্তত ৫০জন। তাদের মধ্যে ৩০জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত অন্তত ২০জন কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে লাল রঙের একটি কুকুর উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা এলাকার ইমরান নামের একজন কৃষকের পায়ে কামড় দেয়। এরপর কুকুরটিকে মারতে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে তেড়ে আসলে কুকুরটি বেপড়োয়া হয়ে এলাকায় ছুটোছুটি শুরু করে। তখন কুকরটি সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫০জন আহত হয়েছে।

এভাবে কুকুরটি চরপাকুন্দিয়া, বীরপাকুন্দিয়া, মধ্যপাকুন্দিয়া, হাপানিয়া, মঙ্গলবাড়ীয়া, সৈয়দগাঁও, শ্রীরামদী, নারান্দী, ঘাগড়া, হোসেন্দী, পাটুয়াভাঙ্গা ও শিমুলিয়া গ্রাম হয়ে শুক্রবার ৩ এপ্রিল সকালে শালংকা গ্রামে প্রবেশ করে হাবু মিয়া নামের একজন যুবককে কামড় দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কুকুরটিকে মেরে অটোরিক্সায় করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শালংকা গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, শুক্রবার এপ্রিল ৩ সকালে যখন হাবু মিয়াকে কুকুরে কামড় দিয়েছে তার ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে কুকুরটিকে ঘিরে ফেলে। তখন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কুকুরটিকে মেরে ফেলা হয়। পরে এলাকাবাসী আহত ব্যাক্তিসহ কুকুরটিকে অটোরিক্সায় করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কুকুরটি হত্যার ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আকবর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যেহেতু কুকুরটি বেওয়ারিশ। কুকুরটি অন্তত ৫০জন নারী-পুরুষকে কামড়িয়ে আহত করেছে। তাই এটিকে মেরে ফেলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প উপায় ছিল না।