মোঃ মঞ্জুর মোল্লা: আইন-শৃঙ্খলার রক্ষক যখন নিজের মেধা ও বুদ্ধিমত্তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগান, তখন অপরাধীরা যতই ধূর্ত হোক না কেন, তাদের নিস্তার পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সম্প্রতি জনৈক ভুয়া বিচারককে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি আমাদের সেই সত্যেরই জানান দিচ্ছে। এই সফল অভিযানের পেছনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) যে ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও বিচক্ষণতা কাজ করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
একজন বিচারকের পরিচয় ব্যবহার করা মানে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদাকে অবমাননা করা। প্রতারক চক্র প্রায়ই এমন প্রভাবশালী তকমা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী পরিচয়ের দাপটে খোদ প্রশাসনও থমকে যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ওসি সাহেব অন্ধভাবে পরিচয় বিশ্বাস না করে নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদারিত্বকে কাজে লাগিয়েছেন।
তার এই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও সাহসিকতা না থাকলে হয়তো এই ভুয়া বিচারক আরও অসংখ্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ পেত। এই গ্রেপ্তার কেবল একটি অপরাধের অবসান নয়, বরং সমাজের সকল প্রতারক চক্রের জন্য একটি কঠোর হুশিয়ারি। এটি প্রমাণ করে যে, সত্যের অনুসন্ধানে আইনের রক্ষকরা যখন সক্রিয় থাকেন, তখন মিথ্যার তাসের ঘর ভেঙে পড়তে সময় লাগে না।
আমরা মনে করি, প্রতিটি থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যদি এমন অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেন, তবে সমাজ থেকে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মিথ্যার দাপট চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব। ওসি সাহেবের এই বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টান্ত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।
ভুয়া বিচারক গ্রেপ্তার: ওসি সাহেবের বিচক্ষণতা ও অপরাধ দমনে বুদ্ধিমত্তার জয়
প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৫:২৩