​চান্দিনায় এসি ল্যান্ড অফিসে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা: দেবিদ্বারের দুই ‘কথিত’ সাংবাদিক গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১, ২০২৬, ১৯:৩০

সাকিলা সুলতানা : কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি কার্যালয়ে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দেবিদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবের দুই কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
​গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিবন্ধনবিহীন অনলাইন পোর্টাল ‘দেবিদ্বার বার্তা টিভি’র কথিত সম্পাদক আব্দুল আলিম এবং একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী রাসেল সরকার।
​ঘটনার বিবরণ
​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার আড়ালে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বুধবার বিকেলে তারা চান্দিনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রবেশ করে গোপনে ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সহকারী কমিশনারের নজরে এলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তারা কর্মকর্তাদের সাথে চরম অসদাচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
​অপরাধের নেপথ্যে
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দেবিদ্বারের প্রতিনিধি হয়েও অন্য উপজেলায় (চান্দিনা) গিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেবিদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য জানান, অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। ২০২৩ সালেও দেবিদ্বারের রাজামেহার ইউনিয়নে ভেকু থেকে চাঁদাবাজি করার সময় তারা গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিলেন।
​তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ:
​গোমতী নদীর তীরের মাটি কাটার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ।
​নিবন্ধনবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে মাসোহারা আদায়।
​বিভিন্ন ভূমি অফিস ও বেকারিতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ।
​বর্তমান পরিস্থিতি
​আটকের পর একটি প্রভাবশালী মহলের তদবিরে অভিযুক্তরা রহস্যজনকভাবে মুক্তি পেয়েছেন বলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ‘কথিত’ সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
​এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের ওপর মহল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে।
​প্রতিবেদক: শাকিলা সুলতানা