সৈয়দা রাশিদা বারী
স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় নিজের ১৩ মাস বয়সী শিশু কন্যার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে পাষণ্ড এক বাবা! কিংবা বলা যায় মায়ের সামনেই মায়ের শিশু কন্যাকে খুন করেছে মনুষ্যত্বহীন দানব পুরুষ! রাস্তাঘাটের জনসাধারণ বলছে, এখন দেখা যাক সমাজের কচুর পাতায় পানির মত স্বামীর দল, মেসেঞ্জার whatsapp থেকে সংরক্ষিত রাখা জিনিস আউট হয়ে মুছে যাওয়ার মত, ভন্ড স্বামী পুরুষের দল অর্থাৎ বেগানা পুরুষরা কি করে! ভালো পুরুষদের তারা বলছেন না। বিশেষ কিছু জ্ঞানী গুণীজনরা অর্থাৎ ভালো মানুষরা, ভালো ব্যাটা ছেলেদের পুরুষ বলেননা! মানুষ বলেন। কেননা পুরুষ শব্দটি বলতে, এটাকে এখন মানুষ খারাপ পয়জন, করোনার মরণব্যাধির মতো জিবানু, মহামারী ব্যাকটেরিয়া মনে করেন। তাদের কাছে পুরুষ নাকি নির্মম অত্যাচারী, হিংস্র প্রাণী বন্য পশু জীব জানোয়ারের মতন। আর মানুষ, মান যুক্ত হুস, তারাই। ভালো মানুষদের চিন্তা-চেতনা, পুরুষের মান নাই, হুশও নাই। ঠিকই তো। হুঁশ থাকলে কি আর নিজের ঔরসকৃত নিষ্পাপ শিশু সন্তান মারতো?! আর কন্যা বলে যদি মারে তবে সে পুরুষ কেমন আপনারাই বলেন?? আর পুরুষ শব্দটা কত ঘৃণ্য কত খারাপ শব্দ সেটাও বোঝেন। আরো দেখেন, নারীকে কুকুরের বাচ্চা মারার অপরাধের প্রতিবাদে যারা একজন কোলে থাকা শিশু সন্তানের মাকে অর্থাৎ সেই নারীকে শাস্তি দিতে বা শাস্তির দাবি করতে উঠে পড়ে লেগেছিল! এখন জঘন্য পুরুষকর্তৃক মানুষের শিশু, মানুষের বাচ্চা মারার দায়ে বা অপরাধে, কি শাস্তির দাবি নিয়ে উঠে পরে লাগে? একজন পুরুষের পিছনে কিভাবে পুরুষ নারী মিলে লাগে? নারীরা কি পুরুষদের পিছনে পুরুষদের শত্রুতা করতে লেলিয়ে দিতে পারবে? এখন দেখা যাক তারা মানে সাধু শয়তান যারা তারা কি করে? বললাম তো এইজন্যই সৃজনশিলদের ভাবনায় পুরুষ পশু! আর ভালো ছেলেরা মানুষ, পুরুষ অর্থাৎ পশু না। মানুষ। এখন কীটপতঙ্গ জীব জানোয়ার বেয়াদব পুরুষরা কি করে, তা এলাকাবাসীসহ সাধারণ জনগণও দেখবে। আর সাধারণ নারীরা অর্থাৎ মূর্খ সমাজের অধিকাংশ নারীরা তো পুরুষ শাসিত সমাজের, মানে দুষ্ট পুরুষের দাসীবাদী। তাই তারা না বুঝে শুনে অমানুষ পুরুষের সাথেই তাল দেয়! নারী হয়েও নারীর শত্রু ওই নারীরাই! আহাম্মক নেমকহারাম বিবেকহীন বুদ্ধিহীন হৃদয়হীন মানবতাহীন নিষ্ঠুর নির্মম পাষন্ড পুরুষের পক্ষে থাকে! সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা জ্ঞানীগুণী বিবেকবান নারী, সমাজে নাই বললেই হয়। খুব কম আছেন! যাদের পুরুষ পশুরা স্বপ্নেও ছুঁয়ে দেখতে পারে না, সাধারণ নারীদের মতো ছিড়ে খূড়ে খাওয়ার তো প্রশ্নই নাই! কিট জানোয়ারের মত, একজন পুরুষ চারজন নারীর একসাথে রেখে, ভোগ বা ব্যবহার করা!!! আস্তাগফিরুল্লাহ তওবা তওবা!!! চরিত্রহীন কাহাকে বলে? ইহাকেই বলে চরিত্রহীন! শরৎচন্দ্রের রচিত গ্রন্থ চরিত্রহীন। কে পড়েছেন বলুন? কেন লুচ মেটাবার জন্য বিয়ে করা হলে হোক। ল্যাংড়া ম্যাঙড়া ইত্যাদি বলে এবং প্রয়োজনেও বিয়ে করা হয় হোক। সমস্যা তো নাই। শুধু একটার উপর আরেকটা বিয়ে করলে, অটোমেটিক অপরটা মানে পূর্বেরটা তালাক হয়ে যাক। তা হয় না কেন? নারীর যেমন তালাক হয়ে যায়, দুইজন স্বামীকে রাখা যায় না। ঠিক তেমন পুরুষেরও তালাক হয়ে যাক। দুইজন স্ত্রীকে রাখা চলবে না। অটোমেটিক তালাক হয়ে যাক। তালাক না হওয়াটাই অন্যায়। অসভ্যপনা। একাধিক স্ত্রী অর্থাৎ নারীকে স্ত্রী হিসেবে রাখা, সমানভাবে উপলব্ধি ও ভোগ করা, এর নামই চরিত্রহীনের কাজ! সমান করে পালা বদল, দিন মাস খন অথবা একসাথে ভাগ করে করে ভোগ করা। জায়েজ বৈধ এবং ভোগ করার স্বাধীনতা থাকার নামই বেশি বাড়াবাড়ি। চরিত্রহীনের মহামারী। এই যে মহামারী ছড়ানো, বাড়াবাড়ি করা, সবার উপর কি চলে? সচেতন বুদ্ধিমতী নারীর উপর কখনো চলে না! অন্যায়কারী পুরুষ সচেতন নারীদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারে না বিধায় দেখতেই পারে না। বিষ ভাবে। আবার খারাপ বলেও ওই ভালো নারীর দুর্নাম দেয়! তার বিরুদ্ধে খারাপ কটু বাক্য ছড়ায়! কিন্তু সেটা বুঝতে হবে, বুদ্ধিদীপ্তরা বোঝেন। আঙ্গুর ফল টক, চালাক শিয়াল কেন বলে এবং এমনি বলে না!! খেতে পারে না অর্থাৎ পায় না বলেই বলে! পুরুষ, সব সময়, মূর্খ গবেট পা চাটা নারীদেরই ভালো জানে। পছন্দ করে। তাইতো শিক্ষার আলো থেকে বহু কাল দূরে সরিয়ে রেখেছিল! ইত্যাদি বিষয় আছে যেখানে নারীদের এখনো স্থান দেয় না। কারণ তাহলে লম্পট পুরুষের অস্তিত্ব থাকে না! যে কারণে পুরুষদেরই একক ষড়যন্ত্রে এখনো সার্টিফিকেট অর্জন করলেও, নারীরা বহুভাবে মূর্খ আছে। তাই বহুভাবে অবহেলিত অপদস্থ অপমান অপদস্থ লাঞ্ছিত গঞ্জিত নির্যাতিত ইত্যাদি হয়! আল্লাহ স্রষ্টা ঈশ্বর নানামুখী ধর্মের দোহাই দিয়েই পুরুষ শাসিত সমাজ, নারীদের বস করে রেখেছে। কেননা নারীরা ধর্মের প্রতি দুর্বল তাই এইটায় নারীদের কবজা করার রিমোট কন্ট্রোল, আসল বাহক চাবিকাঠি। পুরুষ কব্জা করা নারীদের পাশে দয়ায় মায়ায় বিভোর থাকে। শুনাই এবং বুঝায় ভালোবাসার কথা। বহু বিয়ের কথা। একাধিক স্ত্রী রাখার কথা। ব্যাস! এবার ছোট্ট করে অন্য আর একটা কথা বলি? পুরুষ বিয়ে না করেও, লুকিয়ে লুকিয়ে পর নারীর কাছে যাই! স্ত্রীকে বসে ফেলেও স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রকাশ্যেই বলা যায়, পর নারীকে ভোগ করে! পর নারীর ঘর করে। খাই। কখনো বা স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্লাকমেলে ফেলেও এই কাজ করে! বিশ্বাস করেন আর না করেন এটাই রাইট! একটার উপর আরেকটা আনে! আবার না এনেও এইসব করে! মানে পুরুষের শর্ত, সাধ এবং সাধনা, একাধিক নারীর পানি খাওয়া লাগবেই যেকোনো বিনিময়ে। সেটা শুধু ভুক্তভোগী স্ত্রীরাই জানেন। বলেন না জুলুম অত্যাচারের ভয়ে! আর এইসব করেও আবার মন চাইলে অর্থাৎ বলা যায় ভোগ করা হয়ে গেলে, ধর্মের ফরমুলা দাঁড় করিয়ে, তালাক দিয়ে দেয়! অনেকদিন সংসার করা স্ত্রীকে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে পুরুষ কিভাবে তালাক দেয়??! এমনকি তার বাচ্চা থাকা সত্ত্বেও! বাচ্চাকে কেড়ে রেখেও পূর্বে তালাক দেওয়া হতো! বহুজন দেখেছে এভাবেই পুরুষ নারীকে সম্পূর্ণ অধিকার না দিয়ে, করুনার পাত্রী রেখে, লুটেপুটে খায়! করুণা করে ভিক্ষা দেয়! মন না চাইলে ভিক্ষা দেয় না। এমনকি ঘরেও থাকতে দেয় না। ঘরেও স্থান রাখে না। ধর্মের ফর্মুলা ফরমেট ল পয়েন্ট দেখিয়ে। তিন তালাক দেওয়া যাকে কয়!! কচুর পাতায় পানি যেমন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, whatsapp messenger থেকে অনেক তথ্যই যেমন একেবারে হারিয়ে যায়। তেমনি ওই নারীর দেহ লুটেপুটে খাওয়া হয়ে গেলে, স্বামীও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। ছিঃ কি ভয়ানক সাংঘাতিক কথা! তখন বিপদে পড়লেও পূর্বের স্বামীর কাছে …! বিবেকবান বেটা ছেলে খুবই কম আছে। এই লেখা তাদের নিয়ে নয়। আর বললাম তো পুরুষ পশুদের সাথে তাল না দিলে, কুচরিত্রী না হলে, ওই সব পুরুষরা, সেইসব বুদ্ধিমতী জ্ঞানীগুণী সৃজনশীল সমাজের এবং আল্লাহর আসল ভালো মানুষের মানে ওইসব মূল্যবান নারীদের দুই চোখের বিষ ভাবে! ভালো জানার তো প্রশ্নই নাই। হ্যাঁ সন্তান মেরে ফেলানো কুচরিত্র পুরুষের বিপক্ষে কমেন্টে ভরে যাচ্ছে না কেন? ফেসবুকে হিরিক পড়ে নাই কেন, দিব্যি তাজা বাচ্চা মারার ব্যাপারে? এক পায়ে খাড়া থেকে পুরুষ নারী, অমানুষ পুরুষটার ফাঁসি চাচ্ছে না কেন? মানুষের বাচ্চা মেরেছে! ইদুর বাদুর বিড়ালের বাচ্চা নয়। কুকুরের বাচ্চাও নয়! ওই বেয়াদব লোকের ফাঁসি চেয়ে, চারিদিকে ঢল নামিয়ে মিছিল মিটিং হচ্ছে না কেন? একলা কন্যার মা জননী কেন অমানুষ স্বামীর বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবি নিয়ে অনসন করবে? মানববন্ধন করতে মানুষ ডাকবে? রাস্তায় নামবে? সারা দুনিয়ার মানুষ কোথায়?কেন চুপ! খুব তো কুকুর মারার জন্য কয়েকদিন আগেও, এক নিরীহ মহিলার ফাঁসি চাইছিলো??? নারীর অন্যায় পেলে ভালোই পারে!!! পুরুষ তখন নিজেও করে। নারীর দিয়েও নারী পিছনে লেলিয়ে দিয়ে শত্রুতা করায়। এই দিক থেকে খুব পটু! ওস্তাদ! নারীকে ফাঁসাতে পুরুষ ষড়যন্ত্র করার এক নাম্বার! এই জন্যই জ্ঞানীগুনি নারীরা সমাজের কীটপতঙ্গ জানোয়ারদের পছন্দ করেননা। এটা যার মাথায় গু পায়খানা না থেকে বরং ঘিলু আছে সেই বোঝে।
আল্লাহ ঘুনে ধরা নষ্ট এই সমাজকে তড়িঘড়ি সুস্থ করুন, নারীর প্রতি অনীহা অবহেলা দূর করে। এই সমাজের মানুষকে বিশেষ করে পুরুষকে নির্মল স্বাভাবিক বোধশক্তি দান করুন। পরিবেশ সুন্দর পরিপাটি মজবুত জব্দ সৃজনশীল করুন, নারীর প্রতি রহমত, নারীর সু শৃংখল কর্মের প্রতি বরকত বর্ষণ করে। আমিন।
২৮.৩.২০২৬ ইং, রাত ৮টা, শনিবার।