কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাতের আঁধারে ফসিল জমির মাঠি লুটের অভিযোগ ৫ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

প্রকাশিতঃ মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৬:২৬

মোঃ মিজানুর রহমান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নাপিতেরচর এলাকায় অবৈধ ইটভাটা দিপা এন্টারপ্রাইজ ঘিরে ফসলি জমির মাটি লুটের অভিযোগের পরও থামেনি কার্যক্রম। প্রশাসন ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পরও প্রকাশ্যেই রাতের আঁধারে চলতে থাকে মাটি কাটার কাজ। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।

অবশেষে রবিবার ২৯ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান।

অভিযান চলাকালে মাটি কাটার সময় হাতেনাতে ৬ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৫ জনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সাইফুল ইসলাম আকাশ (১৯), পিতা: জীবন মিয়া; সম্রাট (১৯), পিতা: এমদ মিয়া উভয়ের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাব থানার চরবেলাব গ্রামে। এছাড়া জামান ভূইয়া (৩৫), পিতা: নূরুল ইসলাম ভূইয়া; রোকন (২৫) ও ইকবাল হোসেন, উভয়ের বাড়ি গাঙকুলপাড়া গ্রামে; এবং মোঃ কামাল হোসেন (৩৫), পিতা: আব্দুল জায়াদ আলী, গ্রাম পারউজিলা, থানা বেলাব, জেলা নরসিংদী। অপর একজনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি বেকু (এক্সকাভেটর) এবং চারটি ট্রাক্টর (ইঞ্জিনচালিত গাড়ি) জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় মূল হোতাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

এর আগে কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ধানের জমি ও বিভিন্ন সবজির আবাদি জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই অবৈধ ইটভাটায়। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল কৃষিজমি ও ফসল। এলাকাবাসী একাধিকবার অভিযোগ এবং মানববন্ধন করলেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় চলছিল এই ধ্বংসযজ্ঞ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। প্রশাসনের অভিযানে শ্রমিকদের আটক করা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

কৃষকদের দাবি, শুধু শ্রমিকদের শাস্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবারও শুরু হবে ফসলি জমি ধ্বংসের এই চক্র।

এলাকাবাসী দ্রুত দিপা এন্টারপ্রাইজ বন্ধসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।