সন্ত্রাসের ‘প্রোডাকশন হাউজ’ কিশোর গ্যাং: দেশজুড়ে এক মহাবিস্ময়কর আতঙ্ক

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৪:০০

মো. মঞ্জুর মোল্লা : বাংলাদেশজুড়ে এখন এক আতঙ্কের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। একসময় যা কেবল বড় বড় শহরের গলিতে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন মহাবিস্ময় হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রতিটি মফস্বল শহর থেকে শুরু করে নিভৃত পল্লীতেও। কিশোর অপরাধের এই ভয়াবহ বিস্তার এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধরনের অশনিসংকেত।
​সারাদেশে কিশোর গ্যাং ও মামলার পরিসংখ্যান
​পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে।
​মোট মামলার সংখ্যা: গত কয়েক বছরে সারাদেশে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৮০০ থেকে ১,০০০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, মাদক, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির মামলাই প্রধান।
​আটকের চিত্র: ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে গত এক বছরে প্রায় ২,৫০০ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে বিভিন্ন অপরাধে আটক করা হয়েছে।
​সংগঠিত গ্রুপ: গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে ছোট-বড় অন্তত ৫০০-এর বেশি সক্রিয় কিশোর গ্যাং গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব জাহির করে এবং তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
​সন্ত্রাস মুক্ত দেশ না প্রোডাকশন হাউজ ধ্বংস?
​সাংবাদিক মোঃ মঞ্জুর মোল্লা তার মতামতে অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়ার স্লোগান দিলেই হবে না; বরং সন্ত্রাসের ‘প্রোডাকশন হাউজ’ হিসেবে পরিচিত এই কিশোর গ্যাং কালচারকে সমূলে ধ্বংস করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রশাসনের মাথায় বসে যদি সমাজকে এই বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্ত করা না যায়, তবে সেই মেধার সার্থকতা কোথায়?”
​মেধাবী ছাত্র রাজিনের মতো অসংখ্য কিশোরের রক্ত আজ রাজপথে ঝরছে। এরশাদ শিকদার, জলিল কসাই বা কালা জাহাঙ্গীরের মতো দুর্ধর্ষ অপরাধীরাও একসময় এই কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমেই অপরাধ জগতে হাতেখড়ি দিয়েছিল। তাই এখনই সময় সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার।
​প্রতিরোধে করণীয়: জনতার আদালতের সুপারিশ
​১. থানা ভিত্তিক তদারকি: প্রতিটি লোকাল থানাকে নিজ এলাকার কিশোরদের আড্ডাখানাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
২. সামাজিক প্রতিরোধ: শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, ক্লাব ও মন্দির-মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
৩. প্রশাসনের দায়িত্ব: ঘুষখোর বদনাম নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করা অনেক বেশি সম্মানের। শিক্ষিত সমাজ ও প্রশাসনকে কিশোর গ্যাং নির্মূলে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে।
​উপসংহার:
সন্তান বাড়িতে কি করছে তা যেমন অভিভাবক দেখবেন, তেমনি বাইরে সে কার সাথে মিশছে তা দেখার দায়িত্ব সমাজের প্রত্যেকের। আসুন, এই ‘সন্ত্রাস প্রোডাকশন হাউজ’ বন্ধ করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ি।