আনন্দঈদ শপিংয়ে পুরুষ নারী লড়ছে সমানে সমান এবং বিস্মিত স্মৃতি

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৬:৫১

সৈয়দা রাশিদা বারী: ঈদুল ফিতর অর্থাৎ সাওয়ালের ঈদেই বেশি ধুম পরে কসমেটিক্সসহ পোশাক কেনাকাটার। এখন কিন্তু কোন কোন পুরুষও চোখে কাজল পরে, ঠোঁটে লিবিসটিক লাগায়! সাবান শ্যাম্পু কন্ডিশনার সবই ব্যবহার করে। জুতা স্যান্ডেল নতুন পোশাক নারীর সাথে পাল্লা দিয়েই কেনে এবং তাল মিলিয়ে পরে, ব্যবহার করে। ঘুরে বেড়ানো এবং খাবারের আইটেমও তেমনি নারীর সাথে পাল্লা দিয়ে রাখে। যেমন চটপটি টক ঝাল মিষ্টি নারীর খাবারের বস্তু কিন্তু পুরুষ একচাটিয়া খায়! রেস্তোরায় বসলে সচ সালাত টক ঝাল আচার এই জাতীয় প্রভৃতি নারীর খাদ্য খাবার পুরুষই আগে এবং বেশি করে নেয় খায়! এমনকি কিছু পুরুষ চুল বড় রেখে চুলে বাহারি কালো কেশির তেল, চুলের ব্যান্ড গাডার ক্লিপ ইত্যাদি হাতের ব্রেসলেট গলায় সোনার চেইন লকেট, আঙ্গুলের আংটি সমানে কিনে থাকে! নারীর সাথে পাল্লা দিয়ে পুরুষ ব্যবহার করে। কিন্তু সাজগোজের বেশ ভুসা নাকি নারীর জন্য উঠেছে! এবং নারীর পেছনেই ব্যায় বেশি এটা বলে। কবরে যেতেও নারীর বুক সমান মাটির নিচে বেশি কাপড় দিয়ে দিতে হয়। পুরুষের নাভী সমান, কাপড়ও কম লাগে। তাহলে ঈদ উদযাপনে পুরুষ এত ব্যবহার করে কেন? মুখের স্লো হিমানি পাউডার সেন্ট আতর থেকে শুরু করে পুরুষ ব্যবহার করে না এমন কিছু নাই। এর উপরে আবার বাজি ফুটাই! মোটরসাইকেল নিয়ে তো একভাবে ঘরে। এতেও পেট্রল বা তেলের অপচয় হয়। চা-বিস্কুট পান সিগারেট তো আছেই। অথচ দোষ হয় নারী। নারীর বলে বারো হাত কাপড়ের কাছা হয় না, সবই তেমন বেশি লাগে। পুরুষের কাঁছা হয় তেমন সবকিছু কম লাগে। আমি কিন্তু নয় সবাই দেখতেছে ঈদের মার্কেটিং এ পুরুষ নারী পাল্লায় লড়ছে সমানে সমান। দর্জির দোকানেও ভিড় সমানে সমান। গার্মেন্টস শোরুমে ভিড়, পোশাক ও ইত্যাদি নিজের জন্য কেনাকাটায়, সমানে সমান। একদম নারীর সাথে পাল্লা দিয়ে পুরুষ ঈদ উদযাপনে কেনাকাটায় অংশ নেই! শপিং মলে যায়! আর ভাগ করে কিনে। তারপরে দুই বেরিয়ে গেলে ফেলে দেয় সে সব! পুরুষই এটা বেশি করে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বলে! নারী এতটা ফেলে না। এই দিক থেকে আমার কথা বললে বলবো, আমি কিন্তু খাদ্যদ্রব্যের বাজার ঘাট, তরকারির বাজার ঘাট থেকে, ঈদে কাপড় কেনার জন্য মূল্যবান সময় নষ্ট করি না কখনো মার্কেটে গিয়ে। শুধু ঈদ নয় অন্যান্য সময়ও এটা করিনা অতএব আমার আড়ং এ যাওয়ার এবং নিষেধ রক্ষার প্রশ্নই নাই। রুমিন ফারহানার আরং এ ঈদের মার্কেটিং শেষে ব্যাগ কেনার প্রশ্নে যে ঝড় উঠেছে, মানুষ নিষেধ করছে ব্যাগ না দেওয়া আরং এ শপিং করতে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বলছি বা বললাম আমি আমার কথা। এই পুরুষ নারীর ঈদের মার্কেটিং সম্বন্ধে লিখতে আজ একটা স্মৃতি বড্ড কষ্ট দিচ্ছে। বিগত ২০২৩ সালে কুষ্টিয়াতে অনেকদিন পর, অনেকদিন অন্তত বছর পূর্ণ করে থাকার ফলে, ঈদ করেছিলাম। তখন আমাকে কুষ্টিয়ার মান্নান হাট সেন্টার, হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড হাসপাতাল (৬ রাস্তার মোড়, কুষ্টিয়া।) এর স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠাতা মালিক, ডা. শহীদ-ই মঞ্জুর মোমিন (ডাবলু) (মৃত্যু ২৮.২.২০২৬ ইং) ইরানের নেতা খামেনিও একই দিনে মারা গেছেন। ডাক্তার ডাবলু উইনাইটেড হাসপাতালের হার্টের সাবেক ডাক্তার ছিলেন। আমাকে আড়ং এর থ্রি পিস গিফট দিয়েছিলেন এই রমজানের ঈদ উপলক্ষে, সেলাই করানো দর্জির পয়সাসহ অন্যান্য বাজার ঘাট করার খরচ পত্রও দিয়েছিলেন। অবশ্য ভাবির হাত দিয়ে সাথে নিজে থেকে আমাকে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে এক মনোরম পরিবেশে নিজ ইচ্ছাই দিয়েছিলেন। ফোন দিয়ে আমাকে বলেছিলেন তুই কোথায়? ঢাকাতে না কুষ্টিয়া? বলেছিলাম কুষ্টিয়াতেই আছি, এখনো। তখন বলেছিলেন একটু আয়। আমি বলেছিলাম কেন? উনি বলেছিলেন এমনি। তুই কখন আসবি বল। তখন বলেছিলাম বাড়িতে লেবার কাজ করছে তাই ওকে বিদায় দিয়ে আমি বাদ সন্ধ্যায় আসবো। ডাক্তার ডাবলু আমার মামাতো ভাই। ভাবিও ডাক্তার। তাদের একমাত্র কন্যাও ডাক্তার। তার মৃত্যুর জন্য আমার রেডি বই প্রকাশ করার মুখে ছিলো যা বন্ধ করে দিয়েছি এবং একদিনও বইমেলাতে যাই নাই। বইমেলা দ্বিতীয় দিন উনার মৃত্যু হয়েছে! এমনিতেও এবার ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে নির্বাচনের ফলে বইমেলা পরিপূর্ণ জাকজমক ও পূর্ণমাত্রায় হয়নি। ১ তারিখের স্থানে ২৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হয়েছে। জীবন সদস্য হিসেবে উদ্বোধনের চিঠি পেয়েছি ২৪ তারিখে। মনের ভিতরে অস্থির লাগছিল! কি যেন নাই কি যেন নাই এমন ঠেক ছিল তাই উদ্বোধনে যাব না বলে, ব্যাগের ভিতরে ওই চিঠি নিয়ে ২৫ তারিখে সচিবালয় গিয়ে, তথ্য মন্ত্রীর ফুল এবং নববর্ষ সংখ্যা ‘স্বপ্নের দেশ’ পত্রিকা দিয়েছি। পরের দিন ২৬ তারিখ বইমেলা উদ্বোধনের দিন বাইরে বের হই নাই। ওই যে কি যেন নাই কি যেন নাই হাই হুতাসে ছিলাম কারণ আমার সাহিত্য চর্চা লেখালেখি বই প্রকাশ আমার গুষ্টির কেউ মেনে নিই নাই। কেউ পছন্দ করে না, একমাত্র উনি ছাড়া! সাহিত্য চর্চা সাংবাদিকতা আমাদের গুষ্টির মানুষ এভয়েড করে। আমি তাদের সেই অ্যাভয়েডের পাত্রি সাধারণভাবেই! আমার মা আব্বাও পছন্দ করতেন না। নিষেধ করতেন। রাজনীতি করতেও নিষেধ করেছিলেন। এটা আমি শুনেছি, ছাড়তে পেরেছি তাই কিন্তু লেখা ছাড়তে পারি নাই। সবকিছু ত্যাগ করে বিসর্জন দিয়েও লেখা নিয়ে আছি। আমি যখন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কর্তৃক নমিনেশন প্রাপ্ত মেম্বার হই। আমার নির্বাচনী এলাকা হিসেবে, পান্টি ইউনিয়ন তাই কুমারখালীতে শপথ নিতে হয়েছিলো। এর জন্য আমার আব্বা ৭ দিন ভাত খান নাই! মায়ের সাথে কথা বলেন নাই! মা আমাদের বাগান ও বাড়ির মহালদার মসলেম ভাইকে আমাকে নিতে পাঠান। তখন তো এখনকার মতন রাস্তাঘাটের অবস্থা ছিল না। ফোন মোবাইল ছিলনা। মায়ের চিঠি নিয়ে মুসলেম ভাই সারাদিন হেঁটে আমার কাছে পৌঁছান। ঘোড়ার গাড়ি নৌকা এবং পালকির পথ। পালকিতে আমাকে পরের দিন নিয়ে আসেন। সৈয়দ পরিবার হিসাবে আমাদের পরিবারের নারীদের উপযুক্ত একটা বয়স হলে, পুরুষের সামনে যাওয়া নিষেধ ছিলো তখন। আর তখন ভ্যান গাড়ি রিক্সা বাস ছিল না। নৌকা ঘোড়ার গাড়ি পালকি এই ধরনের যানবাহন ছিল। রাস্তাঘাটে এখনকার মতন যানবাহন সুবিধা না থাকায় পুরুষদের বেশিরভাগ হেঁটেই পথ চলতে হতো। অতদূর হেঁটে যাওয়ার ফলে এবং হেটে আসার ফলে উনি আমাকে নিয়ে এসেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আব্বা আমাকে হাতে পেয়ে কারণ ডিসকাশন করতে পারেন নাই কারণ আমার তো তখন বয়স কম। আমি তো তখন খুব বেশি বুঝতাম না। তবে এটুকু জেনেছিলাম যে, রাজনীতি করা একেবারেই যাবে না। স্বাধীন দেশে এখন আর রাজনীতি করতে হবে না। এত উৎসাহিত করে পড়ালেখা করালেন অথচ সাহিত্য লেখাও যাবে না! কেন বলেছিলেন, তখন কারণ বুঝি নাই! এখন বুঝি এবং হারে হারে টের পাই! তিনি জানতেন এবং বুঝেছিলেন যে, এই দেশ দুর্নীতিতে ভরে যাবে! ভিনদেশীদের তাড়িয়ে দিলেও, স্বার্থবাদী লোভীদের জন্য আর ভালো থাকবে না। দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্য মুক্ত হবে না! পরে আমি কষ্ট পাবো দুর্নীতি এবং অন্যায়ের ফলে তাই তিনি নিষেধ করেছিলেন! কারণ তার উপরেও তো অন্যায় করা হয়েছিল এই জন্যই বুঝেছিলেন! সম্মানীর যখন উপযুক্ত সম্মান কদর না করা হয়,ওটাও নির্যাতন! আমার আব্বা যেহেতু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাই আমার সাহিত্যচর্চার প্রতি তার দুর্বলতা ছিলো। মারা যাওয়ার কিছুদিন পূর্বে তিনি আমার সাহিত্য চর্চার বাসায় হঠাৎ হাজির হন। তারপর থেকে মাঝে মাঝে এসে থাকতেন। আমাকে তার বন্ধুদের কাছে ঘুরতে নিয়ে যেতে। আমার সাহিত্য সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডগুলো নাড়াচাড়া করে দেখতেন। এবং নিজের থেকেই বুঝেছিলেন যে, আমারও মানুষের মতন অধিকার নিয়ে বাঁচা প্রয়োজন। নারীর মত নয়, সম্পূর্ণ মানুষের মতন বাচা প্রয়োজন। অতএব পরাধীন জীবন নয়, একান্ত নিজস্ব সব কিছুই লাগবে! আমি কিছু বলি নাই তিনিই নিজের থেকে অনুভব করেছিলেন! এর জন্য যা প্রয়োজন, সেটা তিনি করতে আপন ইচ্ছাতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন তার নিজস্ব ব্যক্তিগত গরজে। তাই ভুল যা তিনি আমাকে নারী ভেবে করেছিলেন তা সংশোধন করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। এবং আমি তো নারী, নারীর কিছু লাগেনা, স্বামীই নারীর সব! এই উপলব্ধিটা তার ভ্রান্ত ধারণাতে পরিণত হয়। জানিনা কেন, বোধ হয় আল্লাহ পক্ষ থেকেই হবে! কারণ তিনি খুব আল্লাহ ভক্ত ছিলেন। আর খুব সৎ মানুষ ছিলেন। মাওলানা হুজুররা পরামর্শ দিয়ে তাকে দিয়ে যা করাইছিলেন তিনি বুঝেছিলেন সেটা ভালো কাজ করা হয় নাই‌‌। ইসলামের প্রতি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার দিয়ে খারাপ কিছু করিয়েছেন। কন্যার উপরে অন্যায় করিয়েছেন। মহান আল্লাহ নারীদের ছোট চোখে দেখতে বলেছেন, সকল নেতৃত্ব কর্তৃত্ব পুরুষের দিয়েছেন তাই তিনি আমার প্রতি অন্যায় করেছিলেন। এতে তিনি নিজেই মর্মাহত হন! ফলে ব্যথিত দুঃখিত মর্মাহত হন। আমার বিষয়ে তার জীবনের এক্সিডেন্ট নিয়ে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। সারারাত তিনি না ঘুমিয়ে আমার সাহিত্য চর্চা এবং বসবাসরত ছোট্ট আঙ্গিনার ভেতর ঘুরেছেন! ঘরে ঢুকে সাহিত্য সংস্কৃতিতে পাওয়া আমার পুরস্কার ছুয়ে ছুয়ে দেখেছেন! সুখ নিয়েছেন! ভোর না হতেই ক্লান্ত আমাকে ডেকে বলেছেন, বেবি মা, অঞ্জলি মনি, তুমি কি আমাকে তোমার গাছের কাঁচকলা সিদ্ধ ভর্তা ভাত রেঁধে দিতে পারবে অন্ধকার থাকতেই?! রৌদ্র ওঠার আগেই আমি … এর কাছে যেতে চাই। আমার কাজ আছে রে … তোর লাগবে, তুই মেয়ে হলেও তোর সবই লাগবে! আমার কাজ আছে রে … সূর্য উঠার আগেই আমি কুমারখালীতে যেতে চাই! এখানে বলে রাখি আমার আব্বা ভাষা আন্দোলনের ফলে এক চোখের সম্পূর্ণ জ্যোতি হারান! অন্য চোখের জ্যোতি সামান্য ছিলো কিন্তু রোদ সইতো না সেই চোখে! তাই তিনি পরতো পক্ষে ভোরে চলাফেরা করতেন এবং সব সময় বৃষ্টি না হলেও, ছাতা সঙ্গে রাখতেন। রোদ্দুরে ব্যবহার করতেন! চোখের রোদ্দুর ঠেকানোর জন্য!! আব্বা আমাকে বলে তারপর আবার পায়চারি করছিলেন! তখনো ফজর আযান দেয় নাই! ভাত রান্না হলে আজান হয়! নামাজ পড়ে কলা ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে, কুমারখালীর মুখো বের হলেন! যাবার সময় শুধু একটা কথাই বলেছিলেন গেটে দাঁড়িয়ে, যা আমার কানে এখনো বাজে! এরপর থেকে ধরো এখন থেকে, আমি যদি শুধু তোমার এখানেই থাকি, তোমার কি সমস্যা হবে? তোমার এখানেই থাকা আমার পছন্দ এবং প্রয়োজন মনে করছি কারণ তোমার ঘরের ভিতরে বাথরুম‌। আর তাছাড়াও আমার যদি অন্য কোথাও থাকার জায়গা না হয়? তাই তোমার এখানেই হয়তো থাকবো। আমি অটোমেটিক এই সমস্ত কথার কোন অর্থ বুঝি নাই! কোন জবাব খুঁজে পাই নাই! তাই কিছু বলি নাই! আমার কিছু না বলাই, কোন সাড়া না পাওয়াই, তিনি কি অপমান বোধ করলেন?? সে চলে যাওয়ার পর থেকে এইটা আবার আমাকে পিড়া দিতে থাকে। আমি কি বললে আব্বা খুশি হতেন? বা আমার কি বলা উচিত ছিলো? সেই তার সাথে আমার দেখা হয়, কেননা আব্বা আর ফিরে আসেন নাই তারপর আর দেখা হয় নাই আমার বাসায়! আসবো বললেন থাকবো বললেন অথচ এলেন না! বেশ কিছুদিন পর একদিন আব্বার খোঁজে আমিই বাড়িতে গেলাম। দেখার জন্যই বলা যায় গিয়েছিলাম। বাবার সাথে যে কন্যার নারীর এমন টান থাকে, সত্যি বলার মত নয়। অন্যের কথা জানিনা আমার কথাই আমি জানি। সেই বাবা কেমন করে কন্যাকে ফাঁকি দেয়! যে ফাকি একজন কন্যাকে মাজা ভেঙ্গে দেওয়ার মত হয়ে জীবনে আর খাড়া হতে দেয় না! মানে শিক্ষা দীক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতিতে খাড়া হতে দেয় না! মেধা মননে পরিপূর্ণ হলেও পরিস্ফুটিত হতে দেয় না! অনন্য জ্ঞানী গুনি যোগ্যতা পারদর্শতাই হলেও সমাজে দেয়না প্রতিষ্ঠিত হতে। কারণ ব্যাখ্যা খুব সহজ না বুঝলে এবং উল্টো বুঝলে অনেক কঠিন।জানলাম তার ঘরের ভিতর বাথরুম করে দেয়া হয়েছে। যেন আমার কাছে না যায় এবং গিয়ে আমার কাছে না থাকে। আমি যে আব্বার বাড়িতে আবার দেখতে গিয়েছি, তাকে সেই খবর জানাতে দেওয়া মোটেই হলো না। তার কাছে আমাকে মোটেই যেতে দিলো না। শুনলাম আমার ওখান থেকে আসার পর থেকে তিনি ঘর আটকিয়ে ঘরের মধ্যেই থাকেন। জানালা দরজা খোলেন না। কারো সাথে কথা বলেন না। ঘরের ভিতরে খাবার কেউ দিয়ে দেয়। আমার বিশ্বাস ছিল, মনে হচ্ছিল, আমি এসেছি জানলে তিনি দরজা খুলবেন। আমাকে কাছে নিবেন। আমার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু তাকে জানানো হলো না, আমাকেও যেতে দিলো না আববার ঘরের ওদিকে! নাম শোনার দরকার নাই তবে এটুকু বলি বাড়ির চাকর আমাকে ঠেকিয়েছিলো!!! আমি সাহিত্যিক চিৎকার চেঁচামেচি করা আমার জন্য শোভনীয় নয়। আর নিজের জন্মদাতা জন্মদাত্রী মা বাবার বাড়ির যেকোনো অন্যায় বৈষম্য দুর্নীতি এবং চাকর কর্তৃক অপদস্ত অপমান জাহেরী করা, এটা কেমন? তাই নিরবে চলে এসেছি। চোখের জল নীরবে নিভৃতে অজান্তে অইচ্ছায় তখনও বেরিয়েছে এখনো বের হয়! যখন আমার মৃত্যুর ঝুঁকি কঠিন অবস্থার সম্মুখীন, ইউট্রাস ফেলতে অপারেশন করতে হয়। হাসপাতাল কুষ্টিয়ার সনো টাওয়ার। আমার বাবা তখন স্ট্রোক করেন! তখন ডাবলু ভাইয়া অলরেডি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের ডাক্তার। ওখানে আমার আব্বা কিছুদিন আইসিউইতে ভর্তি থাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান!! এরপর এইতো আমি আজও আছি!! আমার সাহিত্য ভালবেসেছিলেন, জিনারা দুজন, তিনারা দুজনেই মারা গেলেন!! আব্বা সেই মারা গেছেন! ডাবলু ভাই ছিলেন তিনিও মারা গেলেন! এখন বলেন বই বের করবো আমি কার জন্য?? গুষ্টির মানুষ যদি কেউ পছন্দ না করে, অন্য মানুষের পছন্দে আমার তো পূর্ণতা হয় না! মনে শান্তি লাগেনা! এমনিতেই সমাজের পুরুষরা, নারীর সাহিত্য সংস্কৃতিতে নাক সিটকাই! বড় হওয়া চাই না। প্রভাবশালী এবং সাধারণ, জ্ঞানীগুণী শিক্ষিত এবং মূর্খ সব পুরুষরা ভাবে, এটা শুধু পুরুষদের জন্যই প্রযোজ্য। নারীদের প্রযোজ্য পরকাল উজ্জ্বল করা। গোর আজাব মুক্ত হওয়া। এবং জান্নাত লাভ হয় যত অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে, অসভ্য দুষ্ট চরিত্রহীন বহু নারী ভুকি স্বামীর নামের পুরুষকে পুজো করে তারপর নারীকে অর্জন করতে হয় জান্নাত। আর সেটাই মেনে নেওয়া পৃথিবীতে রাষ্ট্র এবং সমাজে নারীর জন্য প্রযোজ্য। মহান ঈদ পালনে পুরুষ নারী সমানে সমান আনন্দ ঈদশপিং করেন। পোশাক কেনেন, পোশাক পড়েন। কিন্তু সমস্ত মানুষের কল্যাণের প্রত্যয়ে, দেশ গড়া এবং ঈদ পালন করা প্রয়োজন। সেটাই সবার কাছে প্রত্যাশা রাখি । মহান আল্লাহর কাছেও কামনা করছি। আমিন।

১৭.৩.২০২৬ ইং, দুপুর ২টা, মঙ্গলবার।