আপন পায়ে কুঠারহানা নয়, রমজানের প্রত্যয় নাজাত লাভসহ হিংসা বিদ্বেষ কলহ মুক্ত জীবন পরিচালিত হোক

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৮:০০

সৈয়দা রাশিদা বারী: সবকিছু একই সুতাই বাধা, সেটা নিয়ে বিতর্ক করার মতো আহাম্মকীয়া আর নাই। বোকামো করা তো বটেই! আপন পায়ে কুঠার হানার মতো ক্ষতি! ভিনদেশীদের থেকে মুক্তি পেতে, এ দেশ স্বাধীন করার জন্য, তখন ৪৭ পূর্বে সার্বিক পর্যায়ের মানুষ প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহর কাছে কেঁদেছেন। বিপদগ্রস্ত হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য কুরআন শরীফ খতম, রোজা রাখা, নফল নামাজ আদায় শত শত রাকাত এবং দোয়া দরুদ পাঠ এগুলো মানত করেছেন! স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদায় করেছেন। আমার নানা নানি, দাদা দাদিরাও করেছেন! তখনকার হিন্দুরা পূজা দিয়েছেন। পূজা ভগবানের কাছে মানত করেছেন। এভাবে সব জাতির মানুষই যার যার জায়গা থেকে, মহান আল্লাহর কাছে, ভগবানের কাছে, ঈশ্বরের কাছে, স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন। মান্নত দিয়েছেন। যেটা চেয়েছেন বয়স্ক হয়ে যাওয়া তখনকার বড় নেতাগণও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে। মানুষ তো বেশিদিন বাঁচেনা আর শত বছর বাঁচলেও, কর্মক্ষম মানুষ থাকে ৪০/৫০ বছর! তাই মানুষ একজনের পর আরেকজন হ্যান্ডেল ধরে, ধরে রাখতে থাকে! যে কারণে একটা সময় বা পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে তেমনি করে আমাদের দেশের বড় নেতারা ক্ষুদ্র

ইয়াং ও সাহসী ছেলে শেখ মুজিবকে হাতেনাতে রাজনৈতিক শিক্ষা দিয়েছিলেন! কারণ তাদের পরে কে ধরবে এদেশের বিপদগ্রস্ত মানুষের হাল? দেশে স্থিরতা ফেরানোর হাল? এর জন্য তারাই উনাকে দেশের জনগণের পক্ষে কাজ করতে সৃষ্টি করেছিলেন। যেটা আর কি আমার পড়াশোনা করে জানা, বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শোনা এবং ধারণার কথা‌। দেশের মানুষের মুক্তির প্রত্যাশায় তাদের পরবর্তী হাল ধরার জন্য, সিনিয়র নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, যেমন বাংলার বাঘ এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সরোয়ারদী, মজলুম জন নেতা ভাষা সৈনিক মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রভৃতি জন শেখ মুজিবের রাজনৈতিক গুরু ছিলেন। তিনারা তথা সার্বিক পর্যায়ের মানুষ, সাহসী ছেলে যুবক শেখ মুজিবের এদেশের মুক্তির জন্য পরবর্তী জেনারেশনের হবু নেতা মেনে, তার নেতৃত্ব কর্তৃত্বের সম্মান জানিয়েছেন। বলেছি তো তখনকার মানুষ। এটা তখনকার মানুষের কাজ ছিল। এখনকার মানুষ সেটা নিয়ে কেন ঘটবে!? সে কত দিন কাল যুগ আগের কথা! এত বছর পর, তাদের আলোয়ন করা কষ্টের ফসল স্বাধীন দেশে, আজ এখন আমরা সেই জিনিসটা কেন ঘষাঘষি করে কলঙ্কিত করবো? নিজেও কলঙ্কিত হয়ে?! শুধু ব্যক্তি স্বার্থের জন্য!! হ্যাঁ অবশ্যই এটা কিন্তু শেখ মুজিবের কলঙ্ক নয়, এটা কিন্তু দেশের কলঙ্ক এবং আজকের মানুষের কলঙ্ক! উপহাস্যর বিষয় সেটা মনে রাখতে হবে। কারণ ব্যক্তিস্বার্থে এভাবেই দেশ পরদেশীদের হাতে চলে যায় একটা সময়! যদি নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে তার রক্তের সম্পর্কের খালার তথা মীরজাফ মিররের ব্যাক্তি স্বার্থ না ঠক্কর দিত? তাহলে কিন্তু ওই এক্সিডেন্ট হতো না! উনাদের ভুলে দেশের সার্বিক পর্যায়ের মানুষের, সাধারণ জনগণের প্রায় ২০০ শত বছর খেসারত দিতে হতো না। ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এই জন্যই কথায় আছে রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়। বাঘা যতীন ক্ষুদিরাম নেতাজি সুবাস প্রকৃতি বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্বের অসময়ে মৃত্যুবরণ করতে হতো না ঘসেটি বেগমের হিংসা প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্লট, রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে না থাকলে। না থাবা দিলে ৪৭ বলে কিছু থাকতো না। ৫২/৭১ আসতো না। এই যে আজকের ঝামেলা এটা হতো না। দেশ এত খণ্ড হতো না। কাজেই পূর্বের শিক্ষা অনুসারে ব্যক্তিস্বার্থ রাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট রাখা যাবে না। এখন আমার রচিত ১০৩টা গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল সাহিত্য সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট গ্রন্থ আছে। রাষ্ট্র সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে যাদের, তারা আমার ধারে কাছেও কর্মের ক্ষেত্রে নাই। রাজনীতিতে দুর্নীতিতে আছে হয়তো। আমার পিতা একজন আসল জেল খাটা ভাষা সৈনিক ছিলেন। দেশ এবং দশের প্রতি তার অবদানের কথা মাত্রা ছাড়া বলার অবকাশ নেই। রাষ্ট্র একুশে পদক তাকে না দিয়ে, মানে যাদের জন্য একুশে পদক সম্মাননার ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তাকে না দিয়ে, কোনকার দইওয়ালা, নাচনেওয়ালা, ইত্যাদি আউল ফাউলের দিয়ে বেড়ায়! এই বিদঘুটে জঘন্য অন্যায়ের প্রতিবাদে অথবা তাই বলে ব্যক্তিস্বার্থের জন্য আমি কি এই দেশের অন্যায়ের প্রতিবাদে কি সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন ইত্যাদি দিয়ে, রাষ্ট্রের মর্যাদা, রাষ্ট্রের পরিবেশ দূষণ নষ্ট বিভ্রান্তিকর কলঙ্কময় করে তুলবো নাকি? সচিবালয়, প্রেসক্লাব, শাহবাগ ময়দান, বাংলা একাডেমী চত্বর, দোয়েল চত্বর, টিএসসি মোড়, সরোয়ার্ডিন মাঠ, ঢাকা ভার্সিটি এরিয়া, ভিক্টোরিয়া পার্ক বিভিন্ন জায়গায় সরকারের বিরুদ্ধে লড়ে পরিবেশ বিদঘুটে করবো নাকি? একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, সবকিছু গড়তে সময় লাগে, ভাঙতে কিন্তু সময় লাগে না! ও প্রেম গড়তে দুইদিন, ভাঙতে একদিন, এমন প্রেম আর কইরো না …. গান কিন্তু আছে, প্রথমে গানটি মোস্তফা জামান আব্বাসী বোধ হয় গিয়েছেন। অন্যায় এবং খারাপ কাজ করতে মানুষ ডাকলে, মানুষের অভাব নাই! মানুষের অভাব হয়, ভালো কাজে সাথে রাখার ক্ষেত্রে। কারণ ভালো মানুষের থেকে খারাপ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি তাই। যেহেতু নিজের স্বার্থে দেশকে ক্ষতি গ্রস্ত করা ঠিক নয়, নিজের স্বার্থের জন্য, ইহকালে দুইদিন সুখে শান্তিতে সসম্মানে থাকার জন্য, বিপদস্থ বিধ্বস্ত কলঙ্কিত ঢাকার জন্য, মানুষরা নিজের মুখ উজ্জ্বল করতে দেশের উপরে বিভ্রান্তি করে! আমিও কি তাই করবো? উদাহরণ দিতে বলছি, আমাকেও কিন্তু অনেক মানুষ ওই সব করতে উপদেশ দেয়!! বিভ্রান্তি করার জন্য উস্কানি ও উৎসা দিয়ে থাকে। বলে মানববন্ধন দিতে। সাংবাদিক সম্মেলন করতে। আমি পাত্তা দেই না। কারণ ওসব আমাদের দরকার নাই চায়না পেতে। সার্বিক পর্যায়ে মানুষের দেশ, একক সিদ্ধান্তের হতে পারে না। আর হিংসার বশীভূত হয়ে, দেশের চাকা ঘুরানোর সংবিধান, এলোমেলো বা বিভ্রান্তিকর করার যুক্তি ও প্রশ্নই নাই। মন্দ এবং অন্যায় কাজটাকে সুন্দর করার স্বার্থের জন্য সংস্কার করা যেতে পারে। যেমন একাধিক বিয়ে করা যাবে নানান প্রয়োজন এবং কাজে কিন্তু স্বামী যেমন দুইটা রাখা যাবে না। তেমন স্ত্রীও দুইটা রাখা যাবে না। বিয়ে করলেই পূর্বের স্ত্রী এবং স্বামীর অটোমেটিক তালাক হয়ে যাবে। তালাক দেয়ার জন্য আলাদা খরচ এবং সময় নষ্ট করা লাগবে না। এটাতে কি হবে সমাজ শান্ত শীতল ভদ্র সুলভ সুন্দর সুস্থ ভালো থাকবে। সন্তান প্রজন্ম সর্বোচ্চ দুইটা হবে। দুইটার অধিক হবেনা। তাই নারী পুরুষ যত বিয়েই করে করুক, এক দম্পতিকর্তৃক দুইটার অধিক সন্তান নেওয়া রাষ্ট্রীয় অন্যায় এবং নিষিদ্ধ থাকবে। তাহলে গরে দুজন কর্তৃক দুজন প্রজন্ম থাকবে। বহু প্রজন্মের চাপে পরিবেশ নষ্ট হবে না। তালাক দেয়ার জন্য অর্থ খরচ হবে না। কান টানলে মাথা আসে। তাহলে দেখবেন সবার চরিত্র ভালো থাকবে। অকারনে কেউ বিয়ে করে বাড়তি ঝামেলা করে বেড়াবে না। পরিবেশ নষ্ট করবে না। শিশুর সৎ মা সৎ বাবা সহজে হবে না। একেবারে প্রয়োজন ছাড়া নারী-পুরুষ বিয়ে করবে না। অবৈধ পথে চলবেনা। ধর্ষণের হারও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কি এরকম ভালো চান না? পরিবেশ ভালো হবে! সমাজ ভালো থাকবে! চরিত্রবান থাকবে সবাই! বৃদ্ধ বৃদ্ধা শিশুর নিরাপত্তা থাকবে। তাহলে কেন চাইবেন না এমন ভালো কাজ?! প্রথমেই বলেছি নিজ ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করুন! মন্দ অভিরুচি বিসর্জন দিন। অনেকগুলো মেয়ে মানুষের ভেজাইনাতে লিঙ্গ ঢোকাতে হবে এই চিন্তা মাথা থেকে সরান! এটা কোন ভাল কাজ নয়। বইপত্রে লেখা থাকবে কেন? বিবেক বিবেচনা দিয়েই দেখুন, এটা কোন ভাল কাজ নয়! মানুষের দায়িত্ব প্রজন্ম রেখে যাওয়া পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার্থে, মানব সম্প্রদায় যেন পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন না হয়ে যায়। ধামা ধামা জন্ম দেওয়া দায়িত্ব নয়। যে কারণে মাথাপিছু একজন থেকে একটি সন্তানই হবে। ভোট যেমন যে কেন্দ্রেই দিক একটি দিতে পারবে সেই রকম একটি সন্তান নিতে পারবে। স্বামী স্ত্রী মিলে ভাগে গড় নির্ণয়ে গড অনুপাতে দুইটি। সন্তান ছেলে হোক আর মেয়ে হোক তাইতো তাদের অধিকারও সমান দেওয়া প্রয়োজন। পুত্র না হলেও অন্যান্য শরিক ভাগ বাটোয়ারা করতে, ভাঙচুর করে অধিকার আদায় করা অধিকার, বন্ধ করতে হবে। এই সংস্কারটা করা খুবই জরুরী প্রয়োজন। কারণ যুগ বিজ্ঞান খাতে আপডেট হচ্ছে। তাই নষ্ট থাকলে সেটা ভালো করা যাবে। চরিত্রও ভালো করতে হবে। পুরুষ বিবাহ সূত্রে সন্তান যে নারীকেই দিক, দুটি মাত্র দিতে পারবে। নারীও দুইটির অধিক প্রসব করতে পারবে না। তার ভ্যাজাইনার এই অধিকার দেওয়া হবে না। বর হাজব্যান্ড স্বামী নারীর যেটাই হোক। দেখবেন এতে সব অন্যায় কাজ উঠে যাবে। সমাজে আর অন্যায় কাজ বলতেও থাকবে না। যদিও বুঝি ডাক্তারের ইনকামের সাইড রোগী। তাই রোগ পয়দা হোক সেটা ডাক্তারের কামনা। রোগ নিশ্চিহ্ন ডাক্তার করে না। আর আইনজীবীরা চাই গন্ডগোল ফ্যাছাদ। মারামারি অশান্তি। কারণ ওদের পেটের ভাত করা লাগে এইটার উপরে। আরবি শিক্ষা যেমন অলি আউলিয়ার যুগে মক্তবে হত। এরাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা আল্লাহর উপরে অনুগত ছিলো। তখন আল্লাহর পাওয়ার প্রশ্নে এই লাইনটা মানুষ রক্ষা করতো। এখন হয় ব্যবসা। ব্যবসা করার জন্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ হয়েছিল। ওটা এখন বহু গুণে বাড়ানো হয়েছে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য। অলি আউলিয়া সৃষ্টি করা নির্মাণের জন্য নয়। আল্লাহর প্রতি সে অনুগত থাক আর না থাক, মাদ্রাসার সার্টিফিকেট তার পেটের ভাত দেয়। তাকে আল্লাহর পাওয়া লাগে না। আর আগের দিনে মক্তব ধারীরা আল্লাহর অলি হতেন এবং আল্লাহর অলি তৈরি করতেন। আগে লাগতো আল্লাহর পাওয়া। এখন আল্লাহর পাওয়া লাগে না। লাগে পেটের ভাত। মানে এখন আল্লাহর নিয়েও ব্যবসা হচ্ছে মাদ্রাসার মাধ্যমে। এখানে লাগবে টাকা আয় করা। আল্লাহর পাওয়ার পথের দরকার নাই। অতএব সব দিকে শান্তি বজায় থাকবে, স্বামীর বা যেই স্ত্রীরই হোক দুইটার বেশি সন্তান না জন্মানো। একাধিক স্বামী বা স্ত্রী না থাকা। এই একটা নিয়মেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই ভালো কাজ এইটা সংস্কার করা যায়। অন্যগুলো উল্টাপাল্টা করা মানে ব্যবসা করা। কোন লাভ নাই সেসব করে। কেননা সব বৈষম তো এখান থেকেই শুরু হয়েছে। বৈষম্যর গাছের গোড়া কেটে দিলেই বৈষম্য দূর হবে। মাদ্রাসায় আল্লাহর পাওয়ার পদপ্রসার করার, আইনে শান্তি আনার প্রতিষ্ঠান, ডাক্তারখানায় রোগের চিকিৎসা, রোগের মুক্তি এসব জায়গার ব্যবসা ঘুচে, ব্যবসা নষ্ট হয়ে, এমনি ভালো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠা হবে। লিগাল প্রকৃত যেটা সেটাই চলবে। ঢাল ফালা ছুরি তরোয়াল বন্দুক রাইফেল পিস্তল এয়ারগান প্রভৃতি এসব নিয়ে অপকর্মের প্রতিবাদ করতে হবে না। অটোমেটিক সব মানুষ ভালো থাকবে। আল্লাহর দুনিয়ায় দুইদিনের মেহমান মানুষ। এই দুই দিনের জীবনে এত রাজত্ব করা, দুনিয়ারী নিয়ে অশান্তি করা এবং নেতৃত্ব খাটানো, নারীর উপরে জুলুম অত্যাচার করা, এগুলো আপনা আপনি প্রকৃতভাবেই ভালো হয়ে দেশ পৃথিবী সুন্দর চলবে। দেশের নেতৃত্বের লোভে যত ঝামেলা, রাজনীতিক মাঠের প্রভাব স্কুল-কলেজে ভর করবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শান্তির জায়গা। তাই কুকর্ম এই সবও থাকবে না। পরকাল নিয়ে মানুষ ভাববে, আধ্যাত্বিক জগৎ নিয়ে কাজ করবে, প্রকৃত নাজাত পাওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট থাকবে ব্যক্তিগতভাবে। আল্লাহকে কোনদিন দলগত ভাবে পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত অধ্যাবসায় ধ্যান জ্ঞানে আল্লাহকে আকৃষ্ট করা ছাড়া। যেখানে চিরদিন থাকার, সেই পরকাল উজ্জ্বল রাখাটাই তো মানুষের প্রকৃত কর্ম ও ধর্ম। এইটাতে রাজনীতির চক্রান্ত দুর্বালাও দূর হবে। তখন সবকিছু ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় গাছের নিচে জীবন অতিবাহিতর প্রয়াসে আওরঙ্গজেবের মতন ভালো হবার রাজনীতি করবে মানুষ। সুই সুতার আই রোজগারে পেট চালাবেন আল্লাহর পথে মেতে থেকে। আমিও চাই না রাজনীতি নিয়ে কোন কথা বলতে লিখতে। যেহেতু আমি রাজনীতি করি না। কিন্তু মানুষের ফ্যাসাদ দেখে বাধ্য হই। যা বলছিলাম শুরুতে, পূর্বে সিনিয়র নেতাদের সহযোগী থেকে, ভিনদেশীদের তাড়ানোর প্রত্যয়ে, নিজের দেশকে ভিনদেশী চক্রান্ত থেকে মুক্ত করার একমাত্র প্রয়োজনেই শেখ মুজিব রাজনীতি করেছিলেন। উনার সাথে আরও বহু লক্ষ লক্ষ মানুষও কাজ করেছেন। এটা তো তার এবং তাদের অপরাধ না। পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরের দেশের মানুষের তাড়াতে বাধ্য হয়েছিল। এখন তাকে কেন্দ্র করে নিজেরাই নিজেদের মানুষের মধ্যে মারামারি করা তো এই প্রজন্মের কারো জন্যই ঠিক নয়। ইতিহাস তো ইতিহাস। নিজের গতিতে চলে। ইতিহাসকে অস্বীকার করা কলঙ্কিত ভূলুণ্ঠিত করা আর সেসব নিয়ে পড়ে থাকা, ছাত্ররা লেখাপড়া ছেড়ে মোটেই প্রযোজ্য নয়। ওই চর্চায় ডুবে দেশের বুকে অশান্তি করাও মোটেই ঠিক নয়। তার অবর্তমানে পরবর্তী জেনারেশন তাকে কেন্দ্র করে খারাপ কিছু করলে, শেখ মুজিবের কিছু যাবে আসবে না। সম্মানের একটুও হানি হবে না। তবুও এখনকার এরা যদি তাকে টেনে, আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ বলে রাগ ঝাড়ে। আর তার কন্যার কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দোষারোপ করে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য, এটা কিন্তু অপকর্ম করা হয়। লুটপাট ধর্ষণ হিংসা বিদ্বেষ কলহ মুক্ত দেশ গঠনে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করা সবারই দায়িত্ব থাকা দরকার। দেশের বুকে বর্বরতা টেনে আনা। সুখে খেতে ভুতে কিলায় এমন কর্মকাণ্ড হবে। শেখ মুজিবের দোষ নাই, ৭ই মার্চের ভাষণ দেয়া তার অন্যায় কর্ম নয়, তাই কেউ শুনলেও শুনতে পারে। এ বিষয়ে তাকে অসম্মানিত করা মানে নিজেও অসম্মানিত হওয়া! আমার কথা নয় এটা। এটা সার্বিক পর্যায়ের মানুষ, তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ কিন্তু একরকম বুফে বলছেন। ছোট ছোট ছেলে পেলে এই প্রজন্মের ছাত্রসমাজ সেটা কেন বোঝেনা! মহান আল্লাহ এই রমজানে, সবাইকে বুঝবান করুন এবং সুষ্ঠু পথে সমৃদ্ধ থাকার হেদায়েত জ্ঞান দান করুন। আমীন।

১৫.৩.২০২৬ ইং, দুপুর ২টা, রবিবার।