রূপগঞ্জের বরুনায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মামলা

প্রকাশিতঃ মে ১২, ২০২৬, ১৬:১৬

মোঃ মাসুদ করিম,রূপগঞ্জ থেকেঃ রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, গুলি ও আহতের ঘটনায়, মঙ্গলবার সকালে আহত রিপন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শরিফ, সজিব ও রাজিবসহ ২১ জনকে আসামী করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২মে বরুনা পশ্চিমপাড়া এলাকায় সংঘটিত ঘটনার মীমাংসার লক্ষ্যে গত ১১ মে (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে বরুনা মধ্যপাড়া জামে মসজিদে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক বসে।
ওই বৈঠক চলাকালীন অভিযুক্ত শরিফ (৩২), সজিব (২৪), বিপন (৪২) ও রাজিবের (২৮) নেতৃত্বে ২০-২১ জন নামধারী এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী পিস্তল, রামদা, ছেন ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ করে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পিস্তল দিয়ে এলোপাতালি গুলি বর্ষণ করে।
হামলাকারীরা কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির একটি ক্লাব ভাঙচুর করে। পরে তারা জয়নাল আবেদীন ও নবীর হোসেনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় বাদীর ছোট ভাই মোমেন (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে অল্পের জন্য বেচে যায় কিন্তু হাতও পায়ে গভীর ক্ষত হয়। এছাড়া আমানত খাঁ ও বেলাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
বাদী রিপন খান জানান,সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেছে। আমরা বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছেন যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে বিচার শালিস কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হয়। মামলা বিষয়টি রুপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।