মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বহু দলিল জালিয়াতি,স্বাক্ষর জালিয়াতি,ফিঙ্গার জালিয়াতি,নকল ভোটার আইডি কার্ড তৈরি, নকল প্রবেশপত্র দিয়ে একের পরিক্ষা অন্যে অংশ গ্রহন, উপবৃত্তি দূর্নিতী, নকল বাবা-মা তৈরি সহ নানা জাল জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে আলিফ বিজ্ঞান কারিগরি স্কুলের অধ্যক্ষ ফারুক মাষ্টারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আলিফ বিজ্ঞান কারিগরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ ফারুক মাষ্টারের পিতা আব্দুর রাশিদ অত্র প্রতিষ্ঠানের নামে ৫০ শতক ভূমি প্রদান করেছেন ছোট ছেলে মেয়েদের কর্মসংস্থান হবে সেই লক্ষ্যে। কিন্তু ফারুক মাষ্টার ছোট ভাই বোনদের কর্মসংস্থান দেওয়া তো দূরে কথা তার বাবার সম্পত্তির জাল জালিয়াতি করে ছোট ভাই বোন ও মা”কে অনেক অত্যাচার করেন বলে অভিযোগ করেন তার মা আনোয়ারা বেগম (৭০)।তিনি বলেন,আমি তার গর্ভধারিণী মা। কিন্তু সে সম্পত্তির লোভে আমাকেও অস্বীকার করে এবং সব কিছুতেই জাল জালিয়াতি করে। আমার স্বামীর জমি জমার অনেক জাল দলিল করেছে সে। জোর জবর দস্থি করে বাড়িঘর সব দখলে নিতে চায়।আমি বাধা নিষেধ দিলে অত্যাচার করে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথম প্রথম জন্মের সময় আমাদের একাধারে চার ছেলে মেয়ে মারা যাওয়ার কারনে আমার ভাসুর আবু তাহের ও জ্যাঁ জুবেদা খাতুনের মেয়ে শরিফা বেগম কে পালক নিয়ে লালন পালন করে বড় করেছি।কিন্তু সে গোপনে আমাদেরকে পিতা মাতা বানিয়ে জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ড করেছে।এখন সে আমার স্বামীর সম্পত্তির ভাগ নেওয়ার জন্য পায়তারা করতেছে।
জানা যায় ফারুক মাষ্টার ৩০/০৬/২০০৫ খ্রি:তারিখে একটা জাল দলিল করে(জাল দলিল নং২৮১৩)।সেটি কিশোরগঞ্জ জুনিয়র সহকারি আদালত ২০১১ সনের ৩৫ নং মোকদ্দমায় জাল হিসেবে রায় প্রদান করে।১৯/০১/২০১৫ খ্রি: তারিখে একটা জাল দলিল করে(জাল দলিল নং-২৪৩)।১৯৩৭ সালে জন্ম স্বাক্ষর জ্ঞানহীন দলিলদাতা জায়েদা বানু টিপসহী ব্যবহার করতেন।কিন্তু এই দলুলে জায়েদা বানুর পক্ষে উক্ত জাল স্বাক্ষরদাতা হলেন তারই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা আছমা আক্তার। ০২/১১/২০১৪ খ্রি:তারিখে একটা জাল দলিল করে (জাল দলিল নং২৬৬৭) যেখালে দলিল দাতা নূর ইসলাম উরফে ভিকচান জাল দলিল করার প্রায় ১৫ বছর আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন।
২৭/০৬/২০১০ খ্রি: তারিখে তার বাবাকে দাতা বানিয়ে আরেকটা জাল দলিল করে (জাল দলিল নং- ৩৪১২)।
লিপা বেগম, ফারজানা আক্তার(৩৫),আফরোজা আক্তার(৩৩), নার্গিস বেগম(৪৫),সায়েরা বেগম(৫৫),তারাবানু, সুরিয়া বেগম সহ বেশ কিছু মহিলা অভিযোগ করে বলেন,ফারুক মাষ্টার আমাদের থেকে ভোটার আইডি কার্ডের কপি সহ ১৫/২০ টা করে ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়েছে। বলেছে স্কুলের কি কাজে সিম তুলবে। কিছু ভিক্ষুক বলছে আমরা ভিক্ষা চায়তে আসলে ফারুক মাষ্টার বলে আমাদের এনআইড’র ফটোকপি কপি নিয়ে আসলে টাকা দিবে।পরে আমাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট রাখে, এনআইডি রাখে এবং একশো করে টাকা দেয়।আর বলে যতবার এনআইডি নিয়ে এসে আঙ্গুলের চাপ দিবো তত বারই টাকা দিবো।
ফারুক মাষ্টার তার ফারুক মিয়া নাম পরিবর্তন করে কেশব বর্মন তার পিতার নাম সন্তুষ বর্মন এবং মাতার নাম সামলা বর্মন , তার স্ত্রী মাহফুজা সুলতানা সুইটি হল সুইটি বর্মন, তার মেয়ে তেহেজী তৈশী বর্মন এবং সারা’কে সারথি বর্মন পরিচয়ে স্বপরিবারে ভারতীয় নাগরিকত্বও লাভ করেন।
এছাড়াও তিনি তার এক স্কুল ছাত্রীকে ভর্তির সময় ভর্তির ফরমের স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বলে গোপনে কাবিন নামায় ছাত্রীর স্বাক্ষর নিয়ে স্ত্রী বলে দাবি করেন এমন অভিযোগও আছে।এমনকি নকল মা তৈরির বিষয়ে উচ্চ আদালত ফারুক মিয়াকে প্রত্যাখান করেছে বলে জানা যায়।
বিভিন্ন জাল জালিয়াতির বিষয়ে ফারুক মাষ্টারের পরিবার থানায় সাধারন ডায়েরী ও আদালতে মামলা করেছেন। এ সকল বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তার স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা ও মারপিঠ করার প্রতিবাদে ২০২১ সালের ২১ মার্চে পরিবার বর্গ তার বিরুদ্ধে একটা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
এ সকল বিষয়ে ফারুক মাষ্টারের একাধিক নাম্বারে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও সাংবাদিকদের পরিচয় পাওয়া মাত্রই তিনি কিছু না বলেই ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা একটা সাধারন ডায়েরী পেয়েছি। এটা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে, আদালতের অনুমতি প্রাপ্তির পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আবু বাক্কার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফারুক মিয়া বিভিন্ন জাল জালিয়াতির সাথে জড়িত জানি।আগেও ভিন্ন একজনকে বাবা বানিয়ে জাল কাওলা করেছে এমটা শুনেছি। এটা নিয়ে মামলাও হয়েছিল।আর শরিফা বেগম আব্দুর রাশিদের ভাই আবু তাহেরের মেয়ে। আব্দুর রাশিদ পালক নিয়েছিল তার ভাইয়ের মেয়েকে।
এ সকল বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:ইয়াসিন খন্দকার জানান,
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। অভিযোগে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় বিষয়ের উপাদান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় সংক্ষুব্ধ পক্ষকে আইনানুগ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। উপজেলা প্রশাসনের নিকট পরবর্তীতে আদালতের আদেশ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আসলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।