স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ০২ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান এর শেষ কার্যদিবস ছিল এবং তিনি ০৪ এপ্রিল অবসরে চলে যান। এরপর থেকে ব্রি’র মহাপরিচালক পদটি শূন্য হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, ২ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সচিব ছয়জন কর্মকর্তা নিয়ে ব্রি’র সার্বিক অবস্থা এবং মহাপরিচালক নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও পদটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, মহাপরিচালক পদ শূন্য হওয়ায় জরুরি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবাই পরিচালকের (গবেষণা) কাছে যাচ্ছে, কিন্তু তিনি জ্যেষ্ঠ হলেও মহাপরিচালক পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ায় অফিসিয়ালি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না।

তবে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যখন জানা যায় যে, মহাপরিচালক পদে অন্তত ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী এই পদটি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তার মধ্যে যারা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে মন্ত্রীর আত্মীয় এবং আওয়ামী মতাদর্শের অনুসারী, তারা পদোন্নতি ও নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সুযোগ পেয়েছেন।
ব্রি’র কর্মীরা মনে করছেন, যদি এই পদে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী কেউ নিয়োগ পান, তাহলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলে তাদের আশঙ্কা।
এছাড়া ব্রি’র বাইরে থেকেও অনেকজন এই পদ বাগানোর চেষ্টা করছেন।
ব্রি’র কর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও গতিশীল রাখতে এবং বর্তমান সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা থেকেই মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে।
এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি, তবে ব্রি’তে কর্মরতরা আশা করছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ হবে, যা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য সহায়ক হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের
সময় নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি ও নানা বিতর্কিত
কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সমালোচিত ড. মো.
আমিনুল ইসলাম কে মহাপরিচালক করার
তৎপরতাকে নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা
ইনস্টিটিউটে (ব্রি) অস্থিরতা বিরাজ করছে।
একটি সূত্রের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি
তাকে শীর্ষ পদে বসাতে সক্রিয়। ১৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি মহাপরিচালকের পদ নিতে মরিয়া। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিভাজন প্রকাশ্য হয়ে
উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমানে সোনাগাজি আঞ্চলিক স্টেশনে মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্বে থাকা
ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালক
পদে পদায়নের বিষয়ে একটি প্রভাবশালী
সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
ড মো আমিনুল ইসলাম আওয়ামিলীগের সময় সব থেকে সুবিধাভোগী অফিসার। ২০১৯ সালে তার চারজন বছরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিংগিয়ে সে মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হন। ২০১৮ সালে শেখ মুজিবের মুরাল বানানোর নামে প্রচুর অর্থ আত্মসাদের অভিযোগে তাকে দুদকে তলব করা হয়েছে। এই বংগবন্ধু পরিষদ নেতা ২০২৪ এর অগাস্টে ফ্যাসিস্ট পতনের পরে সোনাগাজিতে বদলি হন। অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময় বংগবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম ও মৃত্যু দিবসে সরকারীভাবে ফুল দিতে গিয়েছি, সরাসরি আওয়ামিলীগের রাজনিতি কখনও করিনি।
‘আমার বিষয়ে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অপপ্রচারে লিপ্ত’।