বিদায় ১৪৩২ স্বাগত ১৪৩৩

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১৫:৩৫

জাহাঙ্গীর খান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে এ আহ্বান জানায় বাঙালি। ১ বৈশাখ সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমণ্ডুকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবনব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। সকলের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে সবাইকে নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। সবাই যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণে সবার মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়। গতকাল সোমবার বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্রসংক্রান্তি ছিল। একই সঙ্গে দিনটি ছিল বাংলা ১৪৩২ সালের শেষ দিন। পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় এ নববর্ষ। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে বর্ণিল উৎসবে মেতেছে দেশ। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। রাজধানীসহ দেশজুড়ে থাকবে বর্ষবরণের নানা আয়োজন। সারাদেশে র‌্যাব ও পুলিশ নিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিবসটি উপলক্ষে পৃথব পৃথক বানি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবারের আয়োজনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নববর্ষ উদযাপনে অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজিত শোভাযাত্রায় বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতি এবারের আয়োজনকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিতে পারে। যদিও এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি কোন কোন দেশের কূটনীতিক এতে অংশ নেবেন। ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর রমনার বটমূলে শুরু হবে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতি অনুষ্ঠান। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হবে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানটি। এরপর ধারাবাহিকভাবে পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও লালন সাঁইয়ের গানসহ বিভিন্ন লোকসংগীত। প্রতি বছরের মতো এবারও হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বটমূল এলাকা পরিণত হবে এক মিলনমেলায়।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী জানিয়েছেন, এবারের আয়োজন ‘ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে নির্ভয়ে গান গাওয়ার’ প্রত্যয়ে সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, সংস্কৃতি মানুষকে এক করে, ভয়মুক্ত সমাজ গঠনে সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রভাতি আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও চেতনার অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ হয়ে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত যাবে। এতে অংশ নেবেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে গত কয়েকদিন ধরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন মোটিফ তৈরিতে তারা দিনরাত কাজ করছেন। এবারের শোভাযাত্রায় মোরগ, পায়রা, হাতি, ঘোড়া ও বেহালার প্রতীকী উপস্থাপন থাকবে, যা বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও জীবনের নানা দিককে তুলে ধরবে। প্রতিটি মোটিফের পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্তা, যা সামাজিক বাস্তবতা ও আশার প্রতিফলন ঘটায়।
চারুকলা অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বৈশাখী শোভাযাত্রা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি প্রতিবাদের ভাষাও। সময়ের প্রেক্ষাপটে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, বৈষম্য এবং অন্ধকারকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয় এসব মোটিফে। একইসঙ্গে নতুন বছরের আশা ও ইতিবাচক বার্তাও দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার বিষয়টিও এবারের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। ক্যাম্পাসে প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মুখোশ পরে প্রবেশ এবং বড় ব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে চারুকলা অনুষদের তৈরি মুখোশ হাতে বহন করে প্রদর্শনের অনুমতি থাকবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, উৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ টিম।
বাংলা নববর্ষ শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ এই দিনে একত্রিত হয়। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই নতুন বছরকে বরণ করার আয়োজন চলে। নতুন পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মেলা, গান আর শোভাযাত্রায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো দেশ। বর্তমান সময়ে যখন সমাজে বিভাজন ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, তখন এমন উৎসব মানুষকে একত্রিত করে। সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষ তার শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। নানা প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকা প্রস্তুত বাংলা নববর্ষ বরণের জন্য। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দে ভরপুর এই উৎসব আবারও প্রমাণ করবে বাঙালির প্রাণের শক্তি তার সংস্কৃতিতেই নিহিত।
মূলত ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে। পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। এসময় ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়। আমাদের মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
এদিকে পহেলা বৈশাখকে জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি প্রতি বছর নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গতকাল সোমবার দেওয়া এক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে এসেও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষক ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। তিনি বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং ঐক্যবোধ জাগ্রত করে। বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলিয়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্র ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচিও চালু হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিতে হবে। শেষে তিনি দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অপরদিকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে। আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানান। এই উৎসবমুখর দিনে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে তিনি নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবো-এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা-সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।’ এই আনন্দঘন দিনে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।