গাইবান্ধা থেকে মিলন খন্দকার:গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা ২১ হাজার সিএফটি জব্দকৃত বালু ইউএনও’র গাফিলতির কারনে ১৩ মাসেও নিলামে বিক্রী হয়নি। ফলে লুটপাট করা হয়েছে সেই বালু। আর রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন অভিযান চালিয়ে এই বালু জব্দ করেছিলেন।জব্দ করা বালুগুলো বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রেখেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
লুট হওয়া বালুর বিষয়টি রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল ওই এলাকায় মাইকিং করে আজ (১২ এপ্রিল) জব্দ করা বালুগুলো নিলামে বিক্রী হবে বলে জাানানো হয়।
এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মোবাইল ফোনে জব্দ করা লুট হওয়া বালুর দায় স্বীকার করে বলেন, আমার জিম্মায় ছিলো, লুটপাট হয়েছে বিষয়টি সঠিক।
কিন্তু এসময় তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন কারা করেছে এসব সবাই জানে, আমি নিরুপায়।
এসময় তিনি অভিযোগ তোলেন, এক বছর আগের জব্দ করা বালু নিলাম করতে আমি দফায় দফায় উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। এমনকি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও কথা বলেছি একাধিকবার, আমলে নেওয়া হয়নি। গতকাল মাইকিং হলো আর রাতের মধ্যেই মহোৎসব করে বালু লুটপাট করা হলো।
ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা ও এসিল্যান্ডের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগর কাটগড়া এলাকার ঘাঘট নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পাশেই স্তূপ করে রাখে একটি চক্র। খবর পেয়ে গত বছরের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন সেখানে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন এবং বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন।
পরে ওইসব জব্দ করা বালু আজ (১২ এপ্রিল) নিলামে বিক্রির জন্য গতকাল শনিবার সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকে প্রচার করে উপজেলা প্রশাসন। সে মোতাবেক রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে নিলাম কার্যক্রমে যায় উপজেলা প্রশাসনের ৫ কর্মকর্তা। কিন্তু বালু বিক্রি করতে গিয়ে নিলাম কমিটি দেখে, বালুর সিংহভাগ অংশই লুট হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত তারা নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে ফিরে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জব্দ করা বালু বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখা হয়েছিল। এসব বালু স্থানীয় একটি চক্র রাতে ট্রাকে ভরে লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ বালু নিলামে বিক্রির উপযোগী না থাকায় প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।
শুধু তাই নয়, তাদের অভিযোগ গত ২৮ মার্চ সকালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের সময় একটি ট্রাক্টর ধরে পুলিশে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কিন্তু পরে ট্রাক্টরটি অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া তারা প্রশ্ন তোলেন, এক বছর আগে জব্দ করা বালু নিলামের উদ্যোগ নিতে এতো দেরি হলো কেন? দেরি হওয়ার সুযোগে চক্রটি বালু লুটের সুযোগ পেয়েছে। জব্দ করা বালু লুট হওয়ার কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাহলে এই অর্থ বঞ্চিতের দায় কার?
নিলামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, ‘ জব্দ করা বালু ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে নিলামে বিক্রি করতে যাই। কিন্তু আগেই এসব বালু গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে নিলাম না করেই ফিরে আসতে হয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ইফফাত জাহান তুলি বলেন, জব্দ করা বালু লুটপাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বালুগুলো চেয়ারম্যানের জিম্মাায় ছিলো, তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আসার পর জানতে পেরেই নিলামের উদ্যোগ নিয়েছি। এরআগে যারা ছিলেন তারা কেন নিলাম করেননি সেটি আমার জানা নেই।