জ্বালানি সংকট, বিপাকে পড়েছে রাইড শেয়ারিং চালক ও যাত্রীরা

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৯:৫৪

মো.নূর আলম ভূইয়া: ইরান ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব ব্যাপক ভাবে পড়েছে বাংলাদেশে এর মধ্যে চরম বিপাকে পড়েছে রাজধানীর রাইড শেয়ারিং চালক ও যাত্রীরা। যত দিন যাচ্ছে ততই ঢাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজধানীর ডেমরা সহ সকল ফিলিং স্টেশনগুলোতে।

এক সময় যে পেশাটি তরুণদের কাছে আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেটিই পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তার প্রতীকে। আগে যেখানে চালকেরা দিনে ১২ থেকে ১৫ শত টাকা ইনকাম করতেন বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে সে ইনকাম কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক রাইড শেয়ারিং চালকেরা। তারা বলছেন, সারা দিনের অর্ধেকটা সময় পার হয়ে যায় তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই। এতে করে ট্রিপের সংখ্যা কমে যাওয়া, তেল পেতে দীর্ঘ সময়
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং এমন পরিস্থতিতে ভাড়া না বাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপে পড়ছেন। ফলে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হওয়া বা বিদেশে পাড়ি জমানোর চিন্তা ভাবনাও করছেন।

পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং যাত্রীরা ও পড়েছেন বিপাকে। এত দিনে রাইড শেয়ারিং যাত্রীরা অনেক টা রাইড শেয়ারিং এর প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পরেছিল অল্প সময়ের ব্যবধানে যাত্রীরা তাদের সংশ্লিষ্ট গন্তব্যে পৌছে যেতো কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের কারনে সময় মতো রাইড না পাওয়ায় তাদের ও বাধ্য হয়েই অন্যান্য পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। রাজধানীর আশপাশের এলাকা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল, অফিস, আদালতে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে রাইড শেয়ারিং একটি সহজ এবং সংক্ষেপে গন্তব্যে পৌঁছানোর একটি মাধ্যম। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের ও।

নিয়মিত রাইড শেয়ারিংয়ের যাত্রী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মতিঝিল অফিসে যাতায়াতের বেলায় রাইড শোরিং আমার জন্য সবচেয়ে উত্তম আমার পারমানেন্ট একজন বাইকার ছিল অনকলে আমায় প্রতিদিন অফিসে আনা নেয়া করতো এখন জালানি সংকটের কারণে সে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য বাইকাররেরাও জালানীর অভাবে ঠিকমতো সময় দিতে পারছে না। এ জন্য একটু কষ্ট করেই অফিস করতে হচ্ছে।

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন যাত্রী পরিবহনকারী রাইড শেয়ারিং চালক মাহাবুব মনি কালবেলা কে বলেন, সারা দিনের একটা অংশ অতবা রাত জেহে তেলের লাইনে দাড়িয়ে থেকে আবার যাত্রী পরিবহন অনেক কষ্টসাধ্য কাজ। আগের তুলনায় আমাদের পরিশ্রম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ কিন্তু ভাড়া বাড়েনি। আগে আমরা ভালই ছিলাম।

ডেমরা রামপুরা সড়কে কিকো ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. নূরে আলম জিকো বলেন, চাহিদার ৩ ভাগের এক ভাগ তেলও আমি পাচ্ছি না। যেমন আমাকে দৈনিক ৮ হাজার লিটার ডিজেল আর ৫ হাজার লিটার অকটেন দিচ্ছে ডিপো ধেকে। যেখানে অকটেনের চাহিদা বেশী সেখানে অকটেনের চেয়ে ডিজেল দিচ্ছে বিশী। যা আমার চাহিদার অর্ধেক ও না।