মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: এমন পৈশাচিক ও নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চটান এলাকায়।
ঘটনাটি মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল রাতে ঘটলেও তা পরবর্তীতে জানাজানি হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সৎ মা মরিয়ম গা-ঢাকা দিয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশু সোহা মনি উত্তর লোহাজুরী ইউনিয়নের চটান এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
বর্তমানে তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটির পিতা সাইফুল ইসলাম কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন নির্মম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির আপন মা প্রায় আট মাস আগে দুই মেয়ে সন্তান রেখে সংসার ত্যাগ করে চলে যান। পরে মরিয়ম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন শিশুটির পিতা সাইফুল ইসলাম।
বড় মেয়ে নানুর বাড়িতে থাকলেও ছোট মেয়ে সোহা মনি বাবার সঙ্গেই থাকত। গত মঙ্গলবার রাতে শিশুটির পিতা বাজার থেকে দেরীতে বাড়ি ফেরেন। এ সময় বাইরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। এই সুযোগে শিশুটির ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায় সৎ মা মরিয়ম। নির্যাতনে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে লালচে ফুলে ওঠে।
শিশুটির পিতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “সেদিন রাতে বৃষ্টি থাকায় বাজার থেকে আসতে আমার দেরি হয়। এসে শিশুটিকে কাঁদতে দেখি। পরে শরীরে মারধরের দাগ দেখতে পাই। পরে রাতে স্ত্রী মরিয়ম পালিয়ে যায়। আমার মনে হয়, সৎ মা আমার মেয়েকে বোঝা মনে করত। আমি এর বিচার চাই।”
স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম কাজল বলেন, “বেধড়ক মারধরে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। এটি একটি বর্বর কাজ।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সৎ মা মরিয়মের বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় শিশুর পিতা সাইফুল ইসলাম একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা রুজু করা হবে। গত রাতে ছয়টি বাড়িতে অভিযান চালিয়েও অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। তাকে আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।