জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৯:২৬

খোরশেদ আলম সীমান্ত : যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কাটাতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় অর্ধেক কমে আসায় এই খাতে বিনিয়োগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশবিদ, গবেষক এবং সমাজকর্মীরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। ‘গ্রিনওয়াচ নিউজ ম্যাগাজিন’ ও অনলাইন পেপার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ২০৪০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন করা সম্ভব।
সংকটের মুখে জ্বালানি খাতঃ
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৮৬ শতাংশই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ গ্যাস এবং ২৮ শতাংশ কয়লাভিত্তিক। এই অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বায়ুদূষণ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬-৭ বছর কমে যাচ্ছে এবং প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
আমদানিনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিঃ
বর্তমানে বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য ৫৬ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্যাসের সরবরাহ সংকটে ইতোমধ্যে ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিল্প কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৩০-৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেশী দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশঃ
বক্তারা প্রতিবেশী দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের মোট জ্বালানির ৫১ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ২৫ শতাংশ আসছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। অথচ বাংলাদেশে এই হার মাত্র ৫ শতাংশ। ভারত এই খাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিলেও বাংলাদেশে বরাদ্দের হার অত্যন্ত অপ্রতুল। বর্তমান ৭.৯ ট্রিলিয়ন টাকার বাজেটে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মাত্র ২.৯ শতাংশ।
অর্থায়নের নতুন উৎসঃ
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসেন খান বলেন, ‘দেশে কার্বন ট্যাক্স ধার্য করলে বছরে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। এছাড়া কার্বন ট্রেডিং, জাকাত ও বিভিন্ন অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে উদ্ভাবনী ফান্ড গঠন করে বেসরকারি ছোট উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা যেতে পারে।’
বিশিষ্টজনের উপস্থিতিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমদের প্রধান অতিথিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এম জাকির হোসেন খান। গ্রীনওয়াচ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী আব্দুল হক, ডিপিআইআই সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কবি হাসান হাফিজ প্রমুখ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীল বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ‘জ্বালানি সার্বভৌমত্ব’ অর্জন করতে হলে এখন থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।