৮ বছরেও শেষ হয়নি নরসিংদী জেলা হাসপাতালের বর্ধিতাংশ, সেবাবঞ্চিত রোগীরা

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৫:২০

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ১৫০ শয্যার বর্ধিতাংশের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। ফলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কাজ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখনো নতুন ভবনটি বুঝে নেওয়া সম্ভব হয়নি। নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসার দাবি, ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে রঙ করা, লিফট স্থাপনসহ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, যা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিলম্বিত হয়েছে। যদিও ১০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ভবন বুঝে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দাবি করেছে, তারা ২০২২ সালেই তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করেছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ১৩ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ শুরু হয়। বর্তমানে ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ এগিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় জরুরি বিভাগ, আউটডোর, প্যাথলজি, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, ওয়ার্ড এবং প্রশাসনিক ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় চারটি লিফটের ব্যবস্থা থাকলেও এখনো সেগুলোর কাজ শেষ হয়নি। ৮ম তলায় ডায়ালাইসিস সেন্টারের নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার, টাইলস বসানো ও দরজা স্থাপনের কাজ করছেন শ্রমিকরা।

নির্মাণ শ্রমিক আমিরুল ইসলাম জানান, প্রায় এক মাস ধরে তিনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে কাজ করছেন। ইটের কাজ শেষ হয়েছে, বর্তমানে প্লাস্টারের কাজ চলছে। এরপর টাইলস বসানো ও রঙের কাজ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হতে পারে।

এদিকে, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের কাজ শেষ হলেও লিফট স্থাপনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বর্তমানে ভবনটি চিকিৎসা সেবার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। অসম্পূর্ণ ভবন বুঝে নিতে চাপ প্রয়োগের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলেও তারা মনে করছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, “শতভাগ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভবন বুঝে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তাদের প্রতিবেদনে এখনো কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।”

তিনি আরও জানান, কাজ সম্পূর্ণ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবন বুঝে নেওয়া হবে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে হাসপাতালটি চালু করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
#