সাতক্ষীরায় দুর্ধর্ষ ‘হানি ট্রাপ’ চক্রের মূল হোতা ইউপি সদস্য কাদের ও রিমা গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১, ২০২৬, ১৯:২৬

মো. মঞ্জুর মোল্লা : সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা ভয়ংকর ‘হানি ট্রাপ’ (প্রেমের ফাঁদ) চক্রের মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের ও তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মক্ষীরানী শারমিন আক্তার রিমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফেসবুক ও মোবাইলে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই চক্রের অন্যতম প্রধান দুই সদস্যকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শহরের মনজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
​যেভাবে চলত তাদের কার্যক্রম
​পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটির প্রধান কৌশল ছিল সুন্দরী নারী সদস্যদের দিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তোলা। এরপর কৌশলে তাদের কোনো ভাড়া বাসায় বা গোপন আস্তানায় ডেকে আনা হতো। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চক্রের মূল হোতা আব্দুল কাদের, কথিত সাংবাদিক ফজর আলীসহ অন্যরা ভুক্তভোগীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করত। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্ট্যাম্পে সই নেওয়া এবং মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই ছিল তাদের ব্যবসা।
​গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট
​সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পিংকু ঢালীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মনজিতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে হান্নান সরকার নামে এক ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি সদর থানায় একটি পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলা (জিআর ৪৮১/২৫) দায়ের করেন। ওই মামলায় তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।
​হান্নান সরকারের ভাষ্যমতে, রিমা তাকে কৌশলে কাটিয়া এলাকায় একটি বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে অপর এক নারীর সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে ৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয়।
​অপরাধের দীর্ঘ খতিয়ান
​তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি গত বছরের ১ এপ্রিল নাজিমগঞ্জ বাজারের এক কসমেটিক্স ব্যবসায়ীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং ৫ লাখ টাকার স্ট্যাম্পে সই নেয়। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল এক সাংবাদিককে নগ্ন ভিডিওর ভয় দেখিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনাতেও এই কাদের ও রিমা দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। জামিনে বেরিয়ে তারা নাম পরিবর্তন করে শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে ফের এই ‘মধুচক্র’ গড়ে তোলে।
​পুলিশের পদক্ষেপ
​সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্ধর্ষ অপরাধী চক্রের পতনে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।