কিশোরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৯:০৮

মোঃ মিজানুর রহমান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিল্মি কায়দায় এক যুবদল নেতাকে নিজ রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দুপুরে সদর উপজেলার কাটাবাড়িয়া এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মারধরের শিকার মো. বাবুল মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম শহীদ ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী বাবুল মিয়ার বাবা মো. হাদিস মিয়া বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই শহীদুল ইসলাম শহীদকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আহত যুবদল নেতা বাবুল জানান, চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদের নির্দেশে তার অনুসারীরা তাকে রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে নির্জন স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক বিএনপির একটি চক্র আওয়ামী লীগের লোকজনকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে টাকা আত্মসাত করে আসছে। সম্প্রতি তার দোকান থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি থানায় অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিয়য়ে সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ শাহ আলম বলেন, ‘বাবুলকে তার রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় ফিল্মি কায়দায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে একটি হাত ও একটি পা ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ‘আমি আসলে এই বিষয়ে কিছুই জানি না। ঈদের পর থেকে আমি অসুস্থ। আজকে সারাদিনই আমি বাড়িতে। আমার সাথে বাবুলের কোনো বিরোধ নেই। আর চাঁদাবাজির সঙ্গে আমি জড়িত না। হয়তো কেউ না কেউ এটা তাদের দিয়ে বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সাবেক চেয়ারম্যান, সামনে নির্বাচন করবো। হয়তো আমার মানক্ষুণ্ণ করার জন্য বা আমার অবস্থানটা ডাউন করার জন্য এ ধরণের কথাবার্তা বলছে তারা।’

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।