সরিষাবাড়ীতে জমি বিরোধে সংঘর্ষ: মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৮:৫৬

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) এ ঘটনায় ছাহেবুজ্জামান বিদ্যুৎকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের দোলভিটি গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে রুহুল আমিনের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে ছাহেবুজ্জামান বিদ্যুতের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিগত ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উভয় পক্ষের বসতবাড়িতে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাহেবুজ্জামান বিদ্যুতের পক্ষকে তাদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষ মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন।
কিন্তু স্থানীয়ভাবে মীমাংসিত বিষয় উপেক্ষা করে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে ছাহেবুজ্জামান বিদ্যুৎ ও তার সহযোগীরা নতুন করে দাবি উত্থাপন করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় ছাহেবুজ্জামান বিদ্যুৎ, আবু সাঈদ দুলালসহ তাদের লোকজন রুহুল আমিনের ভাই জহুরুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এতে তার মাথা ও চোখে গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে বাড়ির অন্যান্য নারী-পুরুষ এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় এবং কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নারীদের গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত জহুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের দাবি—ছাহেবুজ্জামান বিদ্যুৎ ও আবু সাঈদ দুলাল বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে জয়নাল আবেদীন (তোতা) বলেন, “আমাদের জমি তারা দখল করে রেখেছে। কাউকে মারধর করা হয়নি। গ্রাম্য দরবারের সিদ্ধান্ত আমরা আর মানবো না।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া বলেন, “এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”