!মো. মঞ্জুর মোল্লা : বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) এক শ্রেণির অসাধু সদস্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখন সাধারণ যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেশনের ফুটপাত দখল থেকে শুরু করে মাদক চোরাচালানে সহায়তা—সবখানেই রয়েছে এই অসাধু চক্রের পদচারণা। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রতি মাসে বিভিন্ন অবৈধ খাত থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ফুটপাত ও প্ল্যাটফর্ম ঘিরে চাঁদাবাজি:
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনসহ দেশের বড় বড় রেলওয়ে স্টেশনের ফুটপাত ও প্ল্যাটফর্ম ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট। হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে এই বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন, তাদের মালামাল জব্দ করা বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। বিনিময়ে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
মাদক কারবারি ও পকেটমারদের সঙ্গে ‘সখ্য’:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে এবং স্টেশনে অবস্থানরত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশই এই সিন্ডিকেটের ‘সেফ প্যাসেজ’ পায়। মাদক পাচারের সময় নির্দিষ্ট অংকের টাকা লেনদেনের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি স্টেশনে সক্রিয় পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের মালপত্র চুরি গেলে অভিযোগ করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
যাত্রী হয়রানি ও টিকিট বাণিজ্য:
টিকিট নেই বা বিনা টিকিটে ভ্রমণের অজুহাতে সাধারণ এবং সহজ-সরল যাত্রীদের আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া ট্রেনের এসি কোচ বা বার্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও তারা নিজেরাই আইনের লঙ্ঘনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রশাসনের নীরবতা ও প্রতিকার:
রেলওয়ের সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে এই সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এই ‘পকেট বাণিজ্য’ চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ জনগণের দাবি, এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে রেলওয়েকে জনবান্ধব ও নিরাপদ করতে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
রেলপথে আরএনবি ও পুলিশের ‘ওপেন সিক্রেট’ বাণিজ্য: পাহারাদারই যখন ভক্ষক
প্রকাশিতঃ মার্চ ২৮, ২০২৬, ০১:২৩