মো. মঞ্জুর মোল্লা : সারাদেশে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে শুরু হয়েছে এক ভয়ংকর ও অবৈধ খেলা। সাধারণ মানুষের চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট গুদামজাত করছে হাজার হাজার লিটার অক্টেন ও পেট্রোল। তেলের পাম্পগুলোতে ‘সরবরাহ নেই’ বলে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, পর্দার আড়ালে ড্রাম আর বোতলে ভরে তেল সরিয়ে ফেলা হচ্ছে গোপন গুদামে।
কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি:
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক পেট্রোল পাম্প দিনে কয়েক ঘণ্টা তেল বিক্রি করে বাকি সময় ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ রাতের অন্ধকারে এসব পাম্প থেকেই চোরাই পথে তেল পাচার হচ্ছে বিভিন্ন গুদামে। অসাধু ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বোতল ও ড্রামে তেল ভরে মজুত করছে, যাতে পরবর্তীতে চড়া দামে তা কালোবাজারে বিক্রি করা যায়।
ভোগান্তিতে সাধারণ চালক ও কৃষক:
এই কৃত্রিম সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং কৃষিকাজে সেচ পাম্প ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে, কালোবাজারে লিটার প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সেই মজুদকৃত তেল।
ঝুঁকিপূর্ণ মজুদ ও নিরাপত্তার অভাব:
বাসাবাড়ি বা জনবহুল এলাকায় এভাবে ড্রাম বা বোতলে দাহ্য পদার্থ মজুদ করায় চরম অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এই অবৈধ মজুদ যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি:
জ্বালানি তেলের এই অরাজকতা বন্ধে এখনই প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান প্রয়োজন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আকাশচুম্বী হবে।
জ্বালানি তেলে অবৈধ মজুদের খেলা: গুদামে অক্টেন-পেট্রোল, সংকটে সাধারণ মানুষ
প্রকাশিতঃ মার্চ ২৮, ২০২৬, ০১:২১