ময়মনসিংহ থেকে সিরাজুল হক সরকার: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ঈদের রাতে মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনার জের ধরে বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, মারপিট ও লুটপাট এর ঘটনায় ৩জন আহত। এ ঘটনায় পুলিশ ঈদের দিন হাফিজ উদ্দিন ও নুরুল হক নামে ২জনকে গ্রেফতার জেল হাজতে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত আসামী নুরুল হক নুরু জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী বিল্লাল হোসেনকে চাপ সৃষ্টি করে এবং মামলা তুলে না নিলে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার ১০নং খেরুয়াজানী ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামে আমীর হাজী বাড়ি মসজিদের জন্য স্থানীয় জনগণের দেয়া অনুদানের টাকা থেকে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। কাজ শেষে অতিরিক্ত ৮৩ হাজার টাকা মসজিদ তহবিলে জমা থাকে। কিন্তু মসজিদের ক্যাশিয়ার উক্ত ৮৩ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচের বিষয়টি মুসল্লিরা জেনে ফেলে। পরে মুসল্লিরা চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে উক্ত টাকা উদ্ধার করায় এতে তার মানহানি হয় বলে ক্ষুদ্ধ হয়। এরই জের ধরে ক্যাশিয়ার হোসেন আলী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ ভাড়াটিয়া গ্রুপ নিয়ে ঈদের চাঁদ রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বিল্লাল হোসেন বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট চালায়। এবং ঘরে থাকা নগদ ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ও ৪ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বিল্লাল হোসেন সহ তার স্ত্রী পুত্ররা বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর আক্রমন চালিয়ে বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী আনজুমানারা ও পুত্র তানভীন কে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা থানায় মামলা হয়। মামলা নং-১৭ (৩)/২০২৬, তারিখ-২১/০৩/২০২৬ ইং। পুলিশ আসামী হাফিজ ও নুরুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। নুরু জেল হাজত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন কে মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এবং মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ বিষয়টি বাদী বিল্লাল হোসেন মুক্তাগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করে। বর্তমানে বাদী বিল্লাল হোসেন তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবী করেছে বাদী বিল্লাল হোসেন।
মুক্তাগাছায় জামিনে বেড়িয়ে এসে বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি
প্রকাশিতঃ মার্চ ২৬, ২০২৬, ১৬:২১