ঈদ আনন্দে পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের  উপচে পড়া ভীড়

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৬:০২

শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের শিবচরে রোজার পরে ঈদের আনন্দ কাটাতে ঈদের ৩য় দিন বিকালে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের চোখে পড়ার মতো ভীড় দেখা যায় যা থাকছে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শিবচরের পদ্মাপাড়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার  দর্শনার্থীদের রয়েছে প্রচুর ভীড়। শিবচর উপজেলার কাঁওড়াকান্দি পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁসে কাঁঠাল বাড়ী পুরাতন লঞ্চ ঘাট অতিক্রম করে জাজিরা পদ্মাসেতুর দক্ষিণ প্রান্তের এলাকা জুড়ে প্রায় ১০ কিঃ মিঃ পর্যন্ত পদ্মাপাড়ের দক্ষিণ পাড়ের অংশ দিয়ে এঁকেবেঁকে বেঁড়ি বাঁধ রয়েছে। ওই বেড়িবাঁধ দিয়ে পায়ে হেঁটে,মোটরসাইকেল কিংবা অটো গাড়ীতে করে  একঝলক আনন্দ উপভোগ করতে বিশেষ করে পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তে প্রায় ৩ কিঃমিঃ এলাকা জন সমুদ্রে পরিণত হয়। বিকেল থেকে লোকালয়ে ভরপুর দর্শনার্থীর দেখা মিলছে-থাকবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পদ্মাপাড়ে পড়ন্ত বিকেলের উষ্ণতায় যেন পরম ভালোবাসা ফিরে পায়। তাই পায়ে হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত হলেও অক্লান্ত অনুভূতি মনে করে ঘুরে পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করার জন্য ভ্রমণ পিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মন ভুলানো চোখ জুড়ানো দক্ষিণা বাতাসে  পদ্মানদীর পানিতে মৃদুমৃদু ছোট ছোট ঢেউ দোল খাচ্ছে। পদ্মানদীতে জেলেরা নৌকা,ট্রলার দিয়ে জাল পেতে মাছ ধরছে। বর্ষার আগমনী বার্তা দিতে পদ্মা নদীতে অল্প অল্প করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদ্মাপাড়ের বেষ্টনী ঘেরা এমন বিচিত্র দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে।

এমনি মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া ও পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতি শনিবার স্হানীয় লোকজন ছাড়াও দূর-দুরান্ত থেকে আশেপাশের জেলা ছাড়াও ঢাকা থেকে আসছে ভ্রমণ-পিপাসু অনেকেই। আনন্দে মেতে গিয়ে বিকেল বেলা অসংখ্য নারী পুরুষ জমায়েত হয়ে থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় ঈদুল ফিতর  উপলক্ষে শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটি কাটাতে এসে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় চোখে পড়ার মতো।পরিবারসহ,গার্লফ্রেন্ড,বয়ফেন্ড,বন্ধু বান্ধব মিলে পদ্মাপাড়ের দৃশ্য দেখার জন্য ছুটে আসছে দলবেঁধে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে।এতেই মুগ্ধ হচ্ছে সবাই।নিকট থেকে দেখছে পদ্মাসেতুর দৃশ্যও।অনেকেই পদ্মাসেতুর নিচে সেতুর দৃশ্য পট স্মৃতি ধারনের জন্য তুলছে সেলফিও। কেউ কেউ পদ্মানদীতে নৌকা কিংবা স্পীডভোট দিয়ে ঘুরছে নদীর এপার ওপার।

ঈদের ছুটি ছাড়াও অন্যান্য সময়ও পদ্মাসেতু এলাকায় ছুটে আসছে পিকনিক কিংবা বনভোজন উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,শিক্ষার্থীরা।

পদ্মাপাড়ের দর্শনার্থীদের বিনোদন দেওয়ার জন্য ছোট ছোট অসংখ্য অস্থায়ী ফুটপাত আকারে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান দেখা যায়।বাদাম,ঝালমুড়ি,ডাব,শরবত, ফুসকা,চটপটিসগহ,বাচ্চাদের হরেক রকমের খেলনা সামগ্রী ঘুরেফিরে বিক্রি করছে হকারেরা। দর্শকদের বিনোদন দিতে সেতু এলাকায় মিনি পার্কে নাগর দোলা ও ঘোড়ায় চড়ে এদিক সেদিক ঘুরছে অনেকেই।

একাধিক দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানতে পারি,কেউ কেউ বলছে, এই প্রথম পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছি। রোজার ঈদের ছুটি যেহেতু অনেক দিন।তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারের অনেকের সাথে ঘুরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।আবার কেউ কেউ বলছে। জীবনেও এই পদ্মাপাড়ে এর আগে আসিনি।পদ্মাসেতু হওয়াতে আমরা এই সেতু দেখতে এসেছি।এতে খুব আনন্দ লাগছে।

নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পদ্মাসেতু এলাকায় জনস্বার্থের জন্য নিরাপত্তার বাড়ানো হয়েছে। নৌপথ ও স্থল পথে নৌপুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের নজরদারী জোরদার করা  হয়েছে।সোজা কথা নিরাপত্তায় কোন ঘাটতি নেই।