কসবায় মাদক কারবারিদের যমদূত এসআই ফারুক

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৪, ২০২৬, ১৮:১১

মোঃ মঞ্জুর মোল্লা: সীমান্তঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানার যোগ্য নেতৃত্বে এবং নিজের অদম্য সাহসিকতায় তিনি এখন সীমান্ত অঞ্চলের মাদক পাচারকারীদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। তবে কঠোর পুলিশিংয়ের পাশাপাশি তার মানবিক সত্তা স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে তাকে এক ভরসার প্রতীকে পরিণত করেছে।
​মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স
​কসবা একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার রোধ করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসআই ফারুক হোসেন কসবা থানার জন্য এক আশীর্বাদস্বরূপ। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান কেবল অপরাধীদেরই দমানি, বরং সাধারণ মানুষের মনে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি। অনেক সময় অদৃশ্য শক্তির চাপ ও জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে চলেছেন।
​উর্দির আড়ালে মানবিক হাত
​এসআই ফারুক কেবল একজন চৌকস পুলিশ অফিসারই নন, বরং একজন সমাজ সংস্কারকও বটে। জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের বাইরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কসবা উপজেলার অন্তত ২-৩ জন মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ বহন করছেন। পুলিশের এই মানবিক রূপটি সাধারণ মানুষের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দূরত্ব কমিয়ে এনেছে।
​স্থানীয় নেতৃত্বের মূল্যায়ন
​স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘সিটিএল’-এর সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী মো. সজীব বলেন, “আমাদের কসবায় মাদকের সহজলভ্যতা রোধে আমরা যেমন ক্রীড়া ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করছি, তেমনি এসআই ফারুক হোসেনের মতো কর্মকর্তারা মাদকের বিরুদ্ধে প্রকৃত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে গিয়ে তার এই সাহসিকতা স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মুশফিকুর রহমানের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে আরও বেগবান করছে।”
​চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য
​নিজের কাজ সম্পর্কে এসআই ফারুক হোসেন বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে মামলা রুজু করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই এক একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পাল্টায়, তাই আমাদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। আমার মূল লক্ষ্য যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা।”
​তিনি আরও যোগ করেন, “মান্যবর জেলা পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশ মোতাবেক আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছি।”
​কসবার আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা, এসআই ফারুকের মতো নিবেদিতপ্রাণ অফিসারদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি মাদকমুক্ত ও সুন্দর সমাজ।