মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ৫ নং মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরীর বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ সহ বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগে সাধারণ জনগণ ও ইউপি সদস্যদের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারী বরাদ্দকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও সেক্ষেত্রে এ ইউনিয়নে চাল বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন তারই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন তারই ইউপি সদস্যরা। স্থানীয় সূত্র ও ইউপি সদস্যদের ভাষ্যমতে জানা যায় ওই দিন ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় চেয়ারম্যানের লোকজন গোডাউন থেকে চাল সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করলে বিষয়টি স্থানীয় জনগণ ও ইউপি সদস্যরা টের পেয়ে যায়। পরবর্তীতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে বিক্ষোভটি বিশৃঙ্খলার আকার ধারণ করলে অন্য ইউপি সদস্যদের বাঁধার মুখে একপর্যায়ে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য ইউপি সদস্যরা ইউপি কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং চেয়ারম্যান বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী চাল বিতরণের সময় সরকারি গোডাউন থেকে চালের বস্তা অন্য গোডাউনে স্থানান্তর করতে থাকলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ও অন্যান্য ইউপি সদস্যরা বাঁধা প্রদান করে এবং চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হয়।
সরেজমিনে ইউএনও এলে তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন – সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি একটি কার্ডের পরিবর্তে ১০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও তিনি নিয়ম অমান্য করে তারই ব্যক্তিগত লোকদের একাধিক কার্ডের বিনিময়ে চাল বিতরণ করেন। এবং পাশের আরেকটি দোকানে বিভিন্ন বস্তা ভর্তি ভিজিএফের সরকারি চাল দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু চেয়ারম্যান তা অস্বীকার করে বলেন, এগুলো বিভিন্ন লোকজন চাল নিয়ে এখানে বিক্রি করে এবং আমার ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই কাজ গুলো করেছেন।
পরে ইউএনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় বিক্ষোভকারীদের তথ্য মতে চালের গোডাউন গুলো পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সেদিনের মতো চাল বিতরণ স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেন এবং
পাশের দোকানে জব্দকৃত সরকারি চালসহ দোকানটি তালাবদ্ধ করে রাখার নির্দেশ দেন।
এসময় তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এবং সার্বিকদিক বিবেচনা সাপেক্ষে আপাতত চাল বিতরণের কার্যক্রম একদিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে ইউপি সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান বরাবরই ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজে স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছেন। ইউনিয়ন পরিষদে কখন কি বরাদ্দ আসে সে সম্পর্কে তিনি কখনোই অন্যান্য সদস্যদের অবহিত করেন না। ভিজিএফের বরাদ্দকৃত চাল কি পরিমান এসছে এবিষয়েও কাউকে অবহিত করেননি। যা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি কাজ। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে সে টাকা তিনি আত্বসাত করেছেন যা নিয়ে এলাকাবাসীরাও বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে কয়েকবার বহিষ্কার হয়েছেন। বিএনপির দলীয় পদ থাকা সত্ত্বেও বিগত আওয়ামী আমলে সাবেক আইজিপি ও আওয়ামীলীগের এমপি নূর মোহাম্মদ ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনের নির্বাচনে সহযোগিতা করার কারণেও তাকে দল থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে।
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় বিবেচনায় পূণরায় তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দলীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।
নতুন করে দলে স্থান পেয়ে দলীয় পদপদবির দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের দূর্নীতি ও দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন। তার অপকর্মে কেউ বাঁধা বা প্রতিবাদ করলে তাকে মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জিম্মি করে রাখেন।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্য বলেন আমি যখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চালের বস্তাগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করতে দেখি তখন আমার সন্দেহ হয় এবং বাঁধা প্রদান করে ফেসবুকে লাইভে বিষয়টি সকলকে অবহিত করি পরবর্তীতে আমি মোটরসাইকেল যোগে ইউনিয়ন পরিষদে আসার পথে চেয়ারম্যানের কিছু লোকজন ও তার ছেলেরা আমার পথ অবরুদ্ধ করে এবং আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে আমার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে। পরে আমি এ বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করি এবং আমার নিরাপত্তার স্বার্থে কয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।
আরেক ইউপি সদস্য বলেন তার এই চাল কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ করায় সে জনসমক্ষে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন ৩/৪ জনকে জেলে ঢুকিয়ে তারপর এবার হজ্জ করতে যাবো।
তার প্রতিপক্ষরা বলেছেন তার এই চালের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করার অভিনব কৌশল অবলম্বন করে কিছু সাংবাদিক ও তারই ব্যক্তিগত কিছু লোকজনকে সাথে নিয়ে শুক্রবার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। মূলত সকলের ধারণা এটি হচ্ছে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো একটি অপচেষ্টা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শুক্রবার (১৩ মার্চ) তারই ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনকে সাথে নিয়ে পূণরায় চাল বিতরণ করে এবং চালের সাথে জনপ্রতি নগদ ১০০ টাকা করে প্রদান করেন। এখন সাধারণ জনগণ ধারনা করে মন্তব্য করে বলেন – তিনি যদি দোষীই না হন তাহলে কেন এতো গুলো মানুষকে ১০০টাকা করে উপহার দিতে হবে। এটিতো তিনি পরেও দিতে পারতেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি তবে ঘটনার কোনো সত্যতার প্রমাণ পাইনি । পরে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যেখানে আমাদের সহকারী কমিশনার ভূমি লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসারের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দেওয়ার হয়েছে। ওনাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে ঈদের পরে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে রিপোর্ট পাওয়ার পর সেখানে যা উল্লেখ করা থাকবে তবে প্রেক্ষিতে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব । যদি এ বিষয়ে কোন সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এবিষয়ে দোকানে চাল মজুদ করা ব্যক্তি বলেন, আমি এই ছালগুলো বিভিন্ন সময় জনগণের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে থাকি। চেয়ারম্যান সাধারণ জনগণকে ১০ কেজি করে চাল দিলে তারা তা আমার কাছে বিক্রি করে দেয় ।পরবর্তীতে আমি তাদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে এখানে ১৫-২০ বস্তা চাল সংগ্রহ রাখি। তবে চেয়ারম্যান সাহেব আমার কাছে কোন চাল বিক্রি করেননি। তবে সব কিছু মিলিয়ে বর্তমানে আমার এখানে চাল মজুদ ৩০-৩৫ বস্তা।তার চাল কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি চালগুলো কিনে পরবর্তীতে বয়লার মিলে তা বিক্রি করে দেই। তিনি আরো বলেন এই চালগুলো শুধু ভিজিএফের চাল নয় এখানে টিসিবির চালও আছে যা সাধারণ দরিদ্র মানুষ বিক্রি করলে আমি তা কিনে সংগ্রহ করি।এই সবগুলো মিলিয়ে আমার এখানে বর্তমানে ৩০/৪০ বস্তা চাল মজুদ আছে।
এ বিষয়ে মুমুরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলেন, ৫ নং মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভিজিএফের সরকারি চাল অন্য বস্থায় ভরে তা বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আমি জানতে পারলে ইউএনও মহোদয়কে অবগত করি। পরবর্তীতে ইউএনও সাহেব এখানে আসলে তার সামনেই চেয়ারম্যানের চার ছেলে এবং তার ক্যাডার বাহিনী প্রতিবাদ করায় আমাকে এবং আমার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ছাত্রদলের সভাপতিকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। তিনি আরো বলেন বিগত শেখ হাসিনার আমলে এই চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন এবং আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে ভরেছেন। আমরা দলের জন্য দুঃসময়ে নির্যাতিত হয়ে কাজ করেছি আর আজ তিনি বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারও তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি দেশ নায়ক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিনীত আবেদন করছি এই এই দালাল গুলোকে অতি শীঘ্র দল থেকে বহিষ্কার করবেন।
এ বিষয়ে মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার এবং মুমুরদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মেম্বার বলেন, বর্তমান এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফের চাল আসলে নিজে একা একাই তা বিতরণ করেন এবং এ বিষয়ে আমাদেরকে কখনো অবগত করেননি। এবার যখন চাল আসে তখন আমি জানতে পারলাম ইউনিয়ন পরিষদের ১০০ গজের ভিতরে একটি গোডাউনে চেয়ারম্যান অবৈধভাবে চাল নিয়ে সেখানে মজুদ করছে। পরবর্তীতে বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করি এবং ইউএনও মহোদয়ের ঘটনাস্থলে এসে ওই গোডাউন এ জব্দকৃত চাল গুলো পরিদর্শন করেন এবং ঐ কক্ষটি তালা বদ্ধ করে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি বলে যান যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তার রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন এই চেয়ারম্যান পূর্বে বিএনপি করতো পরে আওয়ামীলীগের আমলে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে কাজ করে গেছেন এবং দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এখন বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে তাই সে পুনরায় দাবি করছেন যে তিনি বিএনপির নেতা। তিনি বলেন আমরা যে চাল জব্দ করেছি তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে আরেকজনকে নেতা বলেন, আমি এই চেয়ারম্যানের চাল আত্মসাৎ এর বিষয়টি ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করি। বিষয়টি ভাইরাল হলে পরে তার ছেলেরা রাস্তায় আমার মোটরসাইকেল আটক করে আমাকে মারধর করার চেষ্টা করে এবং আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আমি এর একটি সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তিনি আরো বলেন চেয়ারম্যানের ছেলে আমার রাস্তা অবরোধ করে এমনকি আমাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। তার ছেলে আরো বলেছে আমি প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা ইনকাম করি এবং তোমাকে আমি যেকোনো সময় গুম করে ফেলতে পারি। এখন আমার সাধারণ জনগণের কাছে প্রশ্ন চেয়ারম্যানের ছেলেরা প্রতিমাসে কিভাবে দশ লাখ টাকা করে উপার্জন করে? আপনারাই এর সুষ্ঠু তদন্ত করে তার উপার্জনের উৎস খুঁজে বের করবেন ।
এ বিষয়ে মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ফজর বানু বাসনা বলেন, আমরা নির্বাচন করেছি প্রায় চার বছর হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত পরিষদের একজন মেম্বার হয়ে কখনো তার কাছ থেকে আমরা কোনো স্বীকৃতি পায়নি। তিনি আরো বলেন বছরের পর বছর পার হয়ে যায় কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে কি বাজেট আসে তা তিনি কখনো আমাদের কাছে বলেননা। বিগত ৪ বছর ধরে মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এ পর্যন্ত তার কাছ থেকে মোট ৫ টি গর্ভবতী কার্ড পেয়েছি। এরমধ্যে সেলাই মেশিন এসেছে, টিউবওয়েল এসেছে কিন্তু আমি এগুলো কিছুই পাইনি। তিনি আরো বলেন চার বছরের মধ্যে একবার বাজেটের ৯০ হাজার টাকার একটি কাজ তিনি আমাকে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমি কাজ বাবদ হিসাব করে দেখি এখানে সর্বমোট এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার কাজ। এরপর আমি সেই টাকা আর না রেখে তাকে ফেরত দিয়ে দিয়েছি। এবার যখন ভিজিএফ এর কার্ড আসে তখন তিনি আমাকে ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ৫০টি কার্ড দেন এবং আমি সেই কাজগুলো গরিব জনগণের মাঝে বিলি করে দেই। তবে তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ হল কার্ড এলে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সদস্যদের কিছু না বলেই তার একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্ড বিলি করেন। মন চাইলে চৌকিদারের কাছে তার ইচ্ছেমতো কার্ড অন্য সদস্যদের বাড়িতেপাঠিয়ে দেন। তিনি ছয় মাসের মধ্যেও ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের কখনো ডাকেননা। এরপর রেজুলেশনের একটি খাতা আছে, কখনো প্রয়োজন হলে সচিবের মাধ্যমে আমাদের ডাকিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে বিদায় করে দেন। এখন আপনারাই বুঝে নিবেন আমরা কেমন আছি এবং কতটা সুখে আছি।
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা যুবদলের সদস্য মোঃ সুমন বলেন আমাদের ৫ নং মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানের চাল দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তিনি আরো বলেন সরকারি চালগুলো বস্তায় ভরে পাশের দোকানগুলোতে বিক্রি করে দেয় তার এসব দুর্নীতির কারণে তার বিরুদ্ধে কঠিন বিচার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমি বর্তমান এমপি জালালপুর উদ্দিন সাহেবের কাছে তার বিচার দাবি করছি।
এবিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত জানতে চাইলে তারা বলেন, এই চেয়ারম্যান পূর্বে থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। তার অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।
এর আগের সরকারের আমলেও কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই তিনি তার অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন বর্তমানেও তা অপরিবর্তিত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কখনো কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলে সে তার ৪ ছেলে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী
দ্বারা জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
তারা আরো বলেন, আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি এই দূর্নীতিবাজ ও অসৎ লোকের জিম্মি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ রইল।
তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাথে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলে তিনি বিভিন্ন প্রকার অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন। ঘটনার ৩-৪ দিন পর অনেক যোগাযোগের পর তাকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। তিনি আরো বলেন আমি আমার ইউনিয়ন পরিষদে ৪ হাজার ৯ শত ৮২ টি কার্ড পাই এবং আমি এই কার্ডের বিপরীতে ওই পরিমাণ মাল আমি বুঝে নেই এবং মাল গুলো আমি গোডাউনে স্টক করে রাখি। আমি যখন মাল গুলো বিতরণ করি তখন কিছু নেতৃবৃন্দ ১০/২০ টা করে কার্ড নিয়ে আসলে আমি তাদের চাল দেইনি। তাদের এই মাল না দেওয়ার কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।। তিনি আরো বলেন আমার এলাকার কোনো লোকজন বলতে পারবেনা যে, আমি এতদিন ক্ষমতায় থেকে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি। আমার এলাকার কোনো মানুষ কখনো বলতে পারবেনা যে আমি কোনো বিচার শালিশ করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। কেউ বলতে পারবেনা আমি কখনো এসব কার্ড নিয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দূর্নীতি করেছি।
আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে ভালো কাজ করে আসছি তাই আমার কিছু ইউপি সদস্যরা এসব সহ্য করতে পারছেন না।
তিনি আরো বলেন এরমধ্যে একজন মেম্বার আছে সে নাকি আগামীতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবে সেই মূলত আমার বিষয়ে এসব কুৎসা রটাচ্ছে। আমার ছেলেরা প্রতিমাসে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে বরং আমার ছেলেরা তাদের ব্যক্তিগত টাকা থেকে আমরা তা গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করে থাকি।
আমি যদি কখনো গরিবের হক মেরে খেয়ে থাকি তাহলে অবশ্যই জনগণ আমার বিচার করবে।
তবে গণমাধ্যম কর্মীরা ইউপি চেয়ারম্যানের মত গ্রহণ করার সময় হঠাৎ তার সাথে বসে থাকা তার ছোটো ছেলে গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কটিয়াদীতে এমন কোনো সাংবাদিক হয়নাই যে, আমার বাবার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ লেখার সাহস পাবে।