মনির হোসেন জীবন : ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন আজ রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ দর্শনার্থীরা উপচে পড়া প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে । একটানা গত দুই দিন ধরে রাজধানীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্র ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিল, রমনা পার্কে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিশুমেলা, উত্তরার ডিয়াবাড়ি মেট্রোরেল এলাকাসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) বিকালে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নগরীর রামপুরা হাতিরঝিল বিনোদন কেন্দ্র, শিশুমেলা, চিড়িয়াখানা, উত্তরার ডিয়াবাড়ি মেট্রোরেল, ফ্রেন্টাসী আইল্যান্ড পার্ক ও ডিয়াবাড়ি বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের প্রচন্ড ভিড় দেখা গেছে । তবে হাতিরঝিল এলাকাজুড়ে বেশি সমাগম ঘটেছে দর্শনার্থীদের। শ্যামলী শিশু মেলা ও উত্তরা ফ্রেন্টাসী আইল্যান্ড পার্কেও জনসমাগম ছিল সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে শহরে বেড়ানোর অন্যতম বাহন রিকশার কদর ছিল তুঙ্গে, ভাড়াও বেশি। মৌসুমি রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বিনোদনকেন্দ্রমুখী মানুষের কাছ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া হাঁকিয়েছেন।
অপরদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন ও সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভিড় জমেছে অসংখ্য দর্শনার্থীর। ঈদের শুরু থেকেই যে জনস্রোত তৈরি হয়েছিল, তা আজও অব্যাহত রয়েছে। আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো চিড়িয়াখানা এলাকা ছিল উৎসবমুখর।
জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা শিশুদের আনন্দ দিতে ভিড় করেছেন এখানে। প্রবেশদ্বার থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন, টিকিট কাউন্টারে ছিল অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়। ভেতরে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণ ও বানরের খাঁচার সামনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিশুরা আগ্রহ নিয়ে প্রাণীগুলো দেখেছে, প্রশ্ন করেছে এবং আনন্দে মেতেছে। অনেকে এই মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে ছবি ও ভিডিও তুলেছেন। চিড়িয়াখানার ভেতরের শিশুপার্কে ছিল সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস মিনি ট্রেন, দোলনা ও বিভিন্ন রাইডে চড়তে শিশুদের দীর্ঘ লাইনেও উৎসাহ কমেনি।
মণিকা, রাইশা ও রাতুলসহ একাধিক দর্শনার্থী দৈনিক জনতাকে জানান, ঈদের ছুটির তৃতীয় দিনে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে এসে ভালো লাগছে, যদিও ভিড় কিছুটা বেশি। তবে শিশুদের আনন্দই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে টিকিট নিতে দেরি, চলাচলে চাপ, খাবারের দোকানে ভিড় ও বসার জায়গার স্বল্পতা এসব ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন অনেকেই।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানান, ঈদের দিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার, দ্বিতীয় দিনে প্রায় পৌঁনে ১ লাখ এবং তৃতীয় দিনেও প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছেন। চিড়িয়াখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তুরাগের চন্ডালভোগ গ্রামের বাসিন্দা গৃহকর্মী শিউলি ও নাজমা আক্তার দৈনিক জনতাকে জানান, রাস্তাঘাটে তেমন ভিড়ও নেই বলা যায়, অনেকটা ফাঁকা আর পরিবেশটাও বেশ দারুণ। আজ বিকেলে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ডিয়াবাড়ি শিশু বিনোদন কেন্দ্র দেখতে এসেছেন।
ডিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘উৎসবের দিনগুলো ছাড়া বিনোদন গুলোতে সাধারণত আসা সম্ভব হয় না। যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে খোলামেলা সবুজ পরিবেশে এসে ভালোই লাগছে। মন খুলে অনেকটাই আনন্দ উপভোগ করেছি।
তুরাগের ডিয়াবাড়ি ও মেট্রোরেল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও সাবেক প্রয়াত ইউপি মেম্বার লুৎফর রহমান লাল মিয়ার পুত্র মো: সাইদুর ইসলাম দৈনিক জনতাকে বলেন, ঈদুল ফিতরসহ যে কোনো ধরনের উৎসব কিংবা সরকারি ছুটির দিনে ডিয়াবাড়ি বিনোদন কেন্দ্র জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রায় শতাধিক রকমারি খাবারের দোকানের পাশাপাশি বিনোদনের ও ব্যবস্থা রয়েছে।