আশাশুনিতে ৮ম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম

প্রকাশিতঃ মার্চ ২২, ২০২৬, ১১:৩৮

সাতক্ষীরায় প্রতনিধি : ছোট ভাইয়ের সাথে প্রতিবেশি এক যুবকের ইফতারি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মহাজনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ, হামলাকারিদের ভয়ে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে উঠতে পারছেন না। অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
আহত মাদ্রাসা ছাত্রীর নাম সুমাইয়া সুলতানা। সে আশাশুনি উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া সুলতানার পাশে অবস্থানকারি তার মা শাপলা খাতুন জানান, পেশাগত কারণে তিনি ও তার স্বামী ঢাকায় অবস্থান করেন। ঈদ উপলক্ষে তারা গত বৃহষ্পতিবার বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার ছেলে গোলাম মোস্তফা মহাজনপুর জামে মসজিদের মাঠে অন্যদের সাথে খেলা করছিল। এ সময় ইফতারিকে কেন্দ্র করে গোলাম মোস্তফার সাথে প্রতিবেশি বাবলু সরদারের ছেলে সালমানের বচসা ও হাতাহাতি হয়। এ খবর পেয়ে বাবলু সরদার ইয়াছিন সরদার, তার ভাই ইয়াছিন সরদার, মোসলেম সরদার ও হোসেন সরদার বাড়িতে ঢুকে গোলামকে না পেয়ে তার বোন সুমাইয়াকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে মারতে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলে চলে যায়। চলে যাওয়ার আগে তারা পরিবারের ঈদ খরচ বাবদ সুমাইয়ার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। রাতেই সুমাইয়াকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে সুমাইয়ার চাচা আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সুমাইয়াকে মারপিটের পরদিন দুপুরে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক তার অভিযোগ যথাযথ না লিখে একটি কাগজে সাক্ষর করিয়ে নিলেও রবিবার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি। পরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে রবিবার দুপুর একটার দিকে থানায় ডাকলে সংশোধনকৃত অভিযোগটি না নিয়ে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম তাকে লাথি মেরে থানা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি হামলাকারিদের ভয়ে তারা বাড়িতে উঠতে পারছেন না।
মহাজনপুর গ্রামের মোসলেম সরদার শুক্রবার বিকেলে গোলাম মোস্তফা তার(মোসলেম) ভাইপো সালমানকে মারপিট করে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে গোলাম মোস্তফার চাচা আতাউর রহমান রাগন্বিত হয়ে ইয়াছিনকে মারপিট করতে যায়। এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হলেও সুমাইয়াকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার ব্যাপারে আজই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।